২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নদীগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নদীগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে - নয়া দিগন্ত

দেশের পরিবেশবাদিরা অভিযোগ করেছেন, দখল এবং দূষণ অব্যহত রেখে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না করে চলমান উদ্ধার তৎপরতা দীর্ঘমেয়াদে নদী ও দেশের জন্য মারাত্মক অকল্যাণকর। প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নদীগলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। তারা এর সাথে জড়িত সকলের শাস্তির দাবি জানান।

বাংলাদেশের নদী রক্ষায় নিবেদিত সামাজিক সংগঠনসমূহের জোট ‘বিশ্ব নদী দিবস উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে এঅভিযোগ করা হয়। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (সাগর-রুনি মিলনায়তন) সেগুণবাগিচা, ঢাকায় ‘বিশ্ব নদী দিবস ২০১৯ এর জাতীয় প্রতিপাদ্য ঘোষণা ও অনুষ্ঠান প্রস্তুতি বিষয়ে’ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব নদী দিবস উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন-এর সভাপতিত্বে এবং পরিষদের সদস্য সচিব শেখ রোকন এর সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখ।

এছাড়াও আয়োজক সংগঠনসমূহের অন্যান্য প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট গবেষক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিগন উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।

ডা. মো. আব্দুল মতিন তার লিখিত বক্তব্যে জানান এবারের নদীরক্ষা দিবসের মূল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নদীর জন্য পদযাত্রা। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় পুরাতন ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনেপ্রথমে জমায়েত বক্তব্য প্রদান, ঘোষনা পাঠ, প্রধান অতিথির ভাষন। এরপর সকাল ১১টায় পদযাত্রা শুরু করে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে সদরঘাট টার্মিনালে যেয়ে পদযাত্রা শেষ হবে। (গ). দুপুর ১২-০০: টার্মিনালে সংক্ষিপ্ত জমায়েত ও বক্তব্য। দুপুর ১২:৩০ টা: সমাপ্তি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আমাদের আভ্যন্তরীণ নদীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নদীগুলোকেও রক্ষায় কাজ করতে হবে। প্রতি বছর গড়ে ১টি নদী ও ১৫টি খাল বিলুপ্ত হয়ে আছে। যা সারা বিশ্বের জন্য হুমকি স্বরুপ।
মিহির বিশ্বস বলেন, রাজনৈতিক কারণে দেশের নদীগুলো দিনি দিন ধ্বংস হচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে। নদী উদ্ধার করায় শেষ কাজ নয়, নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা প্রবাহমান নদী চাই।

শরীফ জামিল বলেন, দেশের চলমান নদী উদ্ধার তৎপরতায় কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ়তা জাতীর মনে আশার সঞ্চার করেছে। কিন্ত ‘এই উদ্ধার তৎপরতা নদীর সীমানা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করে চালানোর কারনে এটি একটি ক্রুটিপুর্ণ উদ্যোগ। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় বড় দখলদার চির স্থায়ী বৈধতা পাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

শেখ রোকন বলেন, নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সাধারণত জনগণকে অনেক হুমকীর সম্মূখীন হতে হয়। সরকারের পাশাপাশি জনগনকেও নদী রক্ষায় কাজ করতে হবে। ফৌজদারী আইন ও সংশোধন করতে হবে। যেন দখলদাররা নদী কর্মীদের বিরুদ্ধে কোন ভয়ভীতি দেখানোর মত দুঃসাহস না পায়।

 


আরো সংবাদ