২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

পুরো ক্যাম্পাস যেন একটি শোক বই

পুরো ক্যাম্পাস যেন একটি শোক বই - নয়া দিগন্ত

বুধবার সন্ধ্যা ৭টা। বুয়েট শহীদ মিনার চত্ত্বরে জড়ো হয়েছেন আবরারের সহপাঠি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক। সবার উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে উঠল পুরো এলাকা। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্বলে উঠলো প্রতিটি হাতের সব মোমবাতি। কোনো শোক বই তখন রাখা ছিল না শহীদ মিনার চত্ত্বরে। কিন্তু গড়িয়ে পড়া প্রজ্বলিত মোমের প্রতিটি ফোঁটাই যেন বুয়েট ক্যাম্পাসের সবুজ মাঠকে আরো শোকাবহ করে তুলেছিল। শিক্ষার্থী-অভিভাবক-শিক্ষক সবাই তখন শোকে মুহ্যমান।

অভিভাবক-শিক্ষার্থী প্রতিজনের চোখই তখন চোখ ছল ছল করছিল। কেউবা তার কান্নাকে আড়াল করতে মুখ ঢাকার চেষ্টা করছে।
মোমবাতি হাতে মৌন মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার বুয়েট শহীদ মিনার চত্ত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে আবরারের স্মরণে এক মিনিট নীরবতাও পালন করে উপস্থিতরা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত অভিভাবক শাহিনুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিটি ক্যাম্পাস আমাদের সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে দেখতে চাই। আমরা চাই না আবরারের মতো আর কোনো সন্তান অকালে ঝরে যাক। আমার ও আমার সন্তানদের স্বপ্ন রাজনীতির বলি হোক আমরা চাই না।

একই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য জেলায়ও শিক্ষার্থীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও স্মরণ করেন। কর্মসূচিতে আসা নিহত আবরারের সহপাঠী জহিরুল জানান, মোমবাতি জ্বালানোর মাধ্যমে আমরা আবরারকে স্মরণ করছি। এটা একটা মৌন প্রতিবাদ। যাদের চোখে আলো থেকেও নেই আমরা মোমবাতি জ্বালিয়ে তাদের আলোর পথ দেখাতে চাই।
একই সময় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রী হত্যা ও আবরার হত্যা একই সূত্রে গাঁথা লিখা কয়েকটি ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন কয়েকজন অভিভাবক।

এর আগে রোববার রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার রাজধানীর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামিসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার আসামিদের সবাইকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। গ্রেফতার ১৩ জনই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।


আরো সংবাদ