০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

শিবির সন্দেহে হত্যা, তবে এটাই ‘একমাত্র’ কারণ নয় : পুলিশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে কেবল একটি কারণে হত্যা করা হয়নি, বরং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক কারণ ছিল বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট তৈরি করেছে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ, যা আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার এজাহারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাসহ প্রথমে ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তবে তদন্তের পরে আসামির সংখ্যা এখন ২৫ জন। গত ৭ অক্টোবর ভোররাতে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয় বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে। এর পরপরই ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের এই প্রধান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান এবং অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা উশৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত ছিল। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদকে শিবির হিসেবে সন্দেহ করার বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল, কিন্তু সেটাই একমাত্র কারণ নয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের সমীহ করে সালাম না দেয়ার বিষয়টিও আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম কারণ।

‘তারা র‍্যাগিং-এর নামে আতংক তৈরি করেছে।’

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে অন্যদের মাঝেও আতঙ্ক তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে করে অন্য শিক্ষার্থীরাও তাদেরকে সমীহ করে এবং সালাম দেয়।

মি: ইসলাম মন্তব্য করেন,‘এটা ঝিকে মেরে বৌকে শেখানোর মতো। এখানে সিনিয়র-জুনিয়র ইস্যুও ছিল।’

অভিযুক্তরা বুয়েটে 'ভয়ের রাজত্ব' কায়েম করার ধারাবাহিকতায় আবরার ফাহাদের উপর হামলা করে বলে উল্লেখ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রাত দশটার পর থেকেই আবরার ফাহাদের উপর নির্যাতন শুরু হয় বলে তদন্তে দেখা গেছে। ভোররাত ২:৫০ মিনিটে আবরার ফাহাদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আরো আগে যদি আবরার ফাহাদকে হাসপাতালে নেয়া যেত, তাহলে তার এই পরিণতি হতো না বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ, আসামি ও সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করা হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন,‘যেভাবে চার্জশিট করেছি, তাতে সাজা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছি।’

চার্জশিটে বলা হয়েছে, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাথে ১১ জন সরাসরি সম্পৃক্ত এবং বাকিরা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষও সোচ্চার হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সূত্র : বিবিসি।


আরো সংবাদ