১২ ডিসেম্বর ২০১৯

সেই ভাইরাল সুমি দেশে ফিরছেন শুক্রবার

-

সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশী গৃহকর্মী সুমি আক্তার (২৬) অবশেষে দেশে ফিরছেন।শুক্রবার ভোরে জেদ্দা থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসের কাউন্সেলর (শ্রম) আমিনুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডয়েচে ভেলেকে জানিয়েছেন, সুমি আক্তারসহ একই ফ্লাইটে  একশ’ জন নারীকর্মী দেশে ফিরছেন। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, ১০০ জন নয়, সুমির সাথে ফিরছেন আরো ৯২ নারীকর্মী।

সম্প্রতি সৌদি আরবে পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ফেসবুক লাইভে এসে দেশে ফেরার আকুতি জানান সুমি আক্তার। সুমি ঢাকার আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী। তবে, তার বাবার বাড়ি পঞ্চগড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুমি আক্তার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ইমিগ্রেশন পর্ব শেষে তাকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ প্রতিষ্ঠান ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দায়িত্বে সরাসরি পঞ্চগড়ে পৌঁছে দেয়া হবে। কল্যাণ বোর্ডের একজন পরিচালক বিমানবন্দরে সুমিকে গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।সুমির চাওয়া অনুযায়ী তাকে স্বামীর বাড়ির পরিবর্তে তার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারি পরিচালক তানভীর আহমেদ।

সূত্র জানায়, সুমিকে নিয়ে মিডিয়ার বেশ আগ্রহ রয়েছে। তাই যথাসম্ভব মিডিয়াকে এড়িয়ে সুমিকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া সুমি আক্তার তার ফেসবুক লাইভে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের কথা জানিয়ে তাএক সেখান থেকে উদ্ধারের আকুতি জানান। ভিডিওতে সুমি বলেন, ‘ওরা আমারে মাইরা ফালাইব, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। আর কিছু দিন থাকলে আমি মরে যাব।’

সুমির আকুতির ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর তার স্বামী নুরুল ইসলাম রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।এরই মধ্যে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসের শ্রম উইং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় সুমিকে তার গৃহকর্তার কাছ থেকে উদ্ধার করে। তাকে দেশে ফেরানোর জন্য বলা হলে ওই গৃহকর্তা ২২ হাজার রিয়াল দাবি করেন। না দিলে কোনোভাবেই সুমি আক্তারকে ফেরত দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এরপর এটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত রোববার জেদ্দার শ্রম আদালতে সুমির বিষয়ে শুনানি হয়। এতে তার গৃহকর্তাকে কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ করতে হবে না বলে রায় দেন বিচারক।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব কে এম সালাহ উদ্দিনের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এ তথ্য জানান।

এতে বলা হয়, নাজরান শহরের শ্রম আদালতে জেদ্দা কনস্যুলেট-এর প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে সুমি আক্তারের বিষয়টি শুনানি হয়। আদালত শুনানিতে সুমির নিয়োগকর্তার দাবিকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ফেরত পাওয়ার আবেদনটি নামঞ্জুর হয়।পাশাপাশি জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুমির কপিল তাকে দেশে ফেরার অনুমতিপত্র (ফাইনাল এক্সিট) প্রদান করেন।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রচেষ্টায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নির্যাতিতা সুমি আক্তারকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। শুক্রবার সকালে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরছেন।


আরো সংবাদ