২৫ জানুয়ারি ২০২০

সিটি ট্যাক্সের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

সিটি ট্যাক্সের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি - ছবি : নয়া দিগন্ত

রাজধানীর কোথাও একটি গাড়ি থেমেছে, কেউ গাড়ি থেকে মালামাল নিয়ে নেমেছেন; হঠাৎ দেখবেন রসিদ নিয়ে কেউ একজন হাজির। হাতে ৩০ টাকা বা তার চেয়েও বেশি অঙ্কের টাকার রসিদ ধরিয়ে দিয়ে বলবে এটা সিটি ট্যাক্স। আপনি যে মালামাল নিয়ে শহরে পা রেখেছেন, অথবা মালামাল নিয়ে শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যাচ্ছেন; সে কারণে আপনার কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। আবার কোনো পার্কিং প্লেসে গাড়ি থামিয়েছেন; এ জন্য ট্যাক্স দিচ্ছেন। গোটা রাজধানীজুড়েই এখন এভাবে পথচারীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। আবার মানুষ নীরবে এই চাঁদার টাকা দিয়েও যাচ্ছেন। যারা এই চাঁদার টাকা নিচ্ছেন তারা বলছেন, সিটি করপোরেশন তাদেরকে লিজ দিয়েছে সিটি ট্যাক্স আদায়ের জন্য।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোন মানুষ রাস্তা দিয়ে একটি ব্যাগ বা মালামাল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন বা কোনো টার্মিনালে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন তার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের নাম দেয়া হয়েছে সিটি ট্যাক্স বা সিটি টোল। হাতে রসিদ নিয়ে টোলের নামে এই অর্থ আদায় রাজধানীতে ব্যাপক রূপ ধারণ করেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। টোল আদায়কারীরা যাকে তাকে পথে ধরে টাকা নিচ্ছে। যিনি টাকা দিচ্ছেন তিনি জানতেও পারছেন না এটা বৈধ না অবৈধ!

রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার ব্রিজ, পোস্তগোলা, সদরঘাট ও কমলাপুরে রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন টার্মিনালে ঘুরে দেখা যায় এই চাঁদা আদায়ের দৃশ্য। কোনো পথচারী হাতের ব্যাগ-বোঝাসহ গাড়িতে উঠতে গেলেই তাকে টোলের টোকেন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। যারা এই টোল নিচ্ছে তাদের বক্তব্য হচ্ছে এটি বৈধ। একজন মানুষ কোনো মাল নিয়ে গাড়িতে উঠছেন বলেই তাদের কাছ থেকে এই টোল আদায় হচ্ছে।

রাজধানীর মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকায় দেখা যায় এভাবে বেশ কয়েকজন যুবক সাধারণ পথচারীদের কাছ থেকে টোল আদায় করছে। এমনকি যারা গাড়িতে উঠবেন না, কিন্তু হাতে ভারী ব্যাগ বা অন্য কোনো মালামাল রয়েছে তাদের কাছ থেকে এই চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। শিমুল নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি কিছু গার্মেন্টের মালামাল কিনে হকার্স মার্কেট থেকে বের হয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এক যুবক এসে হাতের ব্যাগের জন্য টোল দাবি করে। শেষ পর্যন্ত ৩০ টাকা টোল দিতে হয় তাকে।

সিটি টোলের নামে এই চাঁদার পরিমাণ কিছু দিন আগেও ২০ টাকা ছিল। এখন সর্মনিম্ন হচ্ছে ৩০ টাকা। স্লিপে লেখা রয়েছে, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, গুলিস্তান, জয়কালি মন্দির (সায়েদাবাদ সিটি) মতিঝিল, কোনাপাড়া, মেরাদিয়া, স্টাফ কোয়ার্টার, হাজীনগর, বড়ভাঙ্গা, শনির আখড়া, স্টপ ওভার টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট যানবাহন হতে টোল ফি আদায়ের রসিদ।’ ইজারাদারের নাম লেখা আছে মো: মতিন মৃধা। গুলিস্তান এলাকায় টোল আদায়কারী এক যুবক জানায়, সে চাকরি করে মাত্র। মতিন মৃধার সাথে কথা বলতে বলেন তিনি। টোল আদায়ের রসিদে মতিন মৃধার যে নম্বর দেয়া আছে ওই নম্বরটি সচল পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পার্কিং বসিয়েও সিটি টোল আদায় চলছে। মতিঝিল-দিলকুশাজুড়ে এই পার্কিং বসিয়েছে সঙ্ঘবদ্ধ চক্র। তারা প্রতিদিন মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে রাস্তার পার্কিং ভাড়া দিয়ে। একেক স্থানে একেক রেটে এই টোল আদায় হচ্ছে। মতিঝিল আলিকোর সামনে গতকাল দুপুরের দিকে দেখা যায় রাস্তার প্রায় অর্ধেক জুড়ে অবৈধ পার্কিং। রাসেল নামে এক চালক জানালেন, পার্কিংয়ের জন্য টাকা দিয়েছেন।


আরো সংবাদ

পাইলটকে দেখে নেয়ার হুমকি বিমানযাত্রীর আশুলিয়ায় ৩ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে কর্মচারীকে হত্যা চকবাজারে তাপসের পক্ষে প্রচারণা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অ্যাকাউন্টিংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : পরিকল্পনামন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ইকুয়েডরের ভাইস মিনিস্টারের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা সিটি নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীকে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির সমর্থন সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়তে চান মুফতি আতাউর ঢাকাবাসীর পিঠা ও বাকরখানী উৎসব অনুষ্ঠিত বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়ি ও ক্যাম্পে আ’লীগ প্রার্থীর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ভালো আর্থিক প্রতিবেদনই দিতে পারে ভালো আইপিওর নিশ্চয়তা বেতন বৈষম্য নিরসনসহ ৮ দফা দাবি সরকারি চাকুরেদের

সকল