২৪ জানুয়ারি ২০২০

সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় সার্ভিলেন্স সিস্টেম ডিভাইস

চোরাচালান, মাদক পাচাররোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে দেশের সব ব্যাটালিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকতার সীমান্ত এলাকার মোট ৩২৮ কিলোমিটার সার্ভিলেন্স সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে টেকনাফ ও খুলনা সীমান্তের ১৭ কিলোমিটার এলাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির নবম বৈঠকে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সার্বিক কর্মপরিধির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান সফল করার লক্ষ্যে চেকপোস্টে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও জাতীয়পর্যায়ে সভা-সেমিনারসহ যেসব কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে সেগুলো আলোচনা হয়।

গতকাল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে এ বিষয়ে আগে জেনে তারপর জানাতে পারবেন বলে জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজিবি ভিশন ২০৪১-এর আওতায় সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে ৩২৮ কিলোমিটার সার্ভিলোন্স সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনার মধ্যে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সীমান্তে ১০ কিলোমিটার এবং খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) এর অধীনস্থ পুটখালী সীমান্তে ৭ কিলোমিটার মিলিয়ে সর্বমোট ১৭ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া টেকনাফ-২ (কক্সবাজার) সীমান্তে ১৫ কিলোমিটার, দমদমিয়া থেকে উনচিপ্রাং পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার টেকনাফ-কক্সবাজার সীমান্তে পালংখালী থেকে বাইশফাঁড়ি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের মাসুদপুর থেকে জহুরপুরটেক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার, দিনাজপুর সীমান্তের হিলি থেকে কয়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এবং হাঁপানিয়া (নওগাঁ) সীমান্তে ১৫ কিলোমিটারসহ মোট ১০৫ কিলোমিটারের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সার্ভিলেন্স সিস্টেম ডিভাইস স্থাপনে মোট ৩২৮ কিলোমিটারের পরিকল্পনার মধ্যে ২০৬ কিলোমিটার এলাকায় অবশিষ্ট কাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে।

আলোচ্যসূচি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে মাদকপাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশে মাদকপাচার এবং এর প্রতিকারজনিত সমস্যা প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে দেশ ও জাতিকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষার লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদকদ্রব্য সমস্যাকে মোকাবেলা করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও জনপ্রত্যাশা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।

মূলত বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বিশাল এই সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, বিদেশী মদ, নেশাজাতীয় ইঞ্জেকশন ইত্যাদি এবং মিয়ানমার থেকে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এটি এখন বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রীর মাদক প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতির সমর্থনে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি নানাবিধ বিশেষ কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্তে বিজিবি ডগ স্কোয়াড সম্প্রসারণ করে। অত্র বাহিনীর ১০টি সেক্টরে ২০টি ব্যাটালিয়নের চেকপোস্টে ৭৮টি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা, বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে বিশেষ করে কক্সবাজার জেলার সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধকল্পে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে মরিচ্যায় যৌথ চেকপোস্ট, দমদমিয়া ও হোয়াইক্যং চেকপোস্টে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা ছাড়াও নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ এবং সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে।

সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম ডিভাইস স্থাপনের বিষয়ে কথা বলার জন্য গত রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর পরিচালক (অপারেশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার ফরিদ হাসানের সাথে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার লক্ষ্যে সীমান্তের ৩২৮ কিলোমিটার এলাকায় ক্যামেরা বসানো হবে। এজন্য সীমান্ত এলাকায় গিয়ে পাহারা দিতে হবে না। রুমের মধ্যে ক্যামেরা চালু করেই দেখা যাবে ওই সব বর্ডার দিয়ে কেউ ক্রস করতেছে কি না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৩২৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই আমাদের সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা আছে।


আরো সংবাদ