২৬ মার্চ ২০১৯

ফুলবাড়ীর এক সময়ের খরস্রোতা শাখা যমুনা এখন মরা খাল

-

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা শাখা যমুনা নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর তলদেশ ভরে গেছে। বছরের বেশি ভাগ সময় এ নদীতে পানি থাকে না। কিছু জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। নদীর বুক চিরে চলছে চাষাবাদ। অথচ এক সময় এই নদীই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস। এখন সেসব শুধুই স্মৃতি।
ফুলবাড়ী পৌর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এই শাখা যমুনা নদীটি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি নামক স্থানে ইছামতি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা হয়ে জয়পুরহাট সদর উপজেলা দিয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ত্রিমোহনী যমুনা ও আত্রাই নদীতে মিলিত হয়েছে।
দিনাজপুর পানি উন্নায়ন বোর্ড জানিয়েছে, আঁকা-বাঁকা পথে এই নদীটির দৈর্ঘ প্রায় সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় রয়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার। এই নদীটি এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে একমাত্র মাধ্যম ছিল। এই নদীকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে গড়ে উঠেছে শহর এবং হাজারও বসতি।
এই নদীর পানি দিয়ে এক সময় চলত এই অঞ্চলের কৃষকের চাষাবাদ ও ঘর-গৃস্থালির কাজ। এই নদীর মাছ দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মাছের চাহিদা পূরণ হতো। জীবিকা নির্বাহ করত অনেক জেলে সম্প্রদায়। সেই নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীটি দীর্ঘ সময় সংস্কার না করায় এবং প্রতি বছর বন্যায় নদীর তলদেশে পলি জমে নদীটির নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। নদীর পাড় দখল করে অনেকে গড়ে তুলেছে দালানকোটা। নদীতে ফেলছে ময়লা আবর্জনা। ফলে নদীটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, নদীটিতে বছরে বেশির ভাগ সময় পানি থাকে না। নদীর বুক চিরে এখন বিভিন্ন রকমের ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফসল উৎপাদন করতে নদীর পাড় কেটে জমি তৈরি করছে অনেকে। এ কারণে বর্ষায় নদীতে পালির স্তর আরো বেশি করে জমে যাচ্ছে।
নদী পাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, নদীতে পানির ধারণ ক্ষমতা না থাকায় বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিপাতে বন্যা হয়ে যায়। নদীর পানি ঘরবাড়িতে প্রবেশ করে। এতে করে প্রতি বছর বন্যার সময় ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
নদী পাড়ের কৃষকেরা বলছেন, নদীতে পানি না থাকায় সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। নদীটি দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। তারা আরো বলেন, নদীটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এক সময় বিলীন হয়ে যাবে।
নদী বাঁচাও আন্দোলনের ফুলবাড়ী নেতা পল্লীচিকিৎসক ওয়াজেদুর রহমান বাবলু বলেন, নদীর স্বাস্থ্য ভালো থাকলে দেশের স্বাস্থ্য ও মানুষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এখন নদীর স্বাস্থ্য ভালো নেই। তাই মানুষের স্বাস্থ্যও ভালো না। তিনি বলেন, আমাদের প্রকৃতি জীববৈচিত্র্য সবই নির্ভর করে নদীর ওপর, তাই নদীকে বাঁচাতে হবে।
এ দিকে উপজেলা মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, নদীতে পানি না থাকায় দেশী প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে, উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী স্বাদু পানিতে ২০১ প্রকার প্রজাতির মাছ থাকলেও, এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ প্রকার মাছ আর দেখা যায় না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাজনুন্নাহার মায়া বলেন, ২৬৫ প্রকার প্রজাতির মাছ স্বাদু পানিতে থাকে। এর মধ্যে এখন সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০১ প্রকার মাছের বংশ রয়েছে। এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ প্রকার প্রজাতির মাছ আর দেখা যায় না। বাকি মাছগুলো চাষের মাধ্যমে বংশ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীতে সারা বছর পানি না থাকায় দেশী প্রজাতির মাছের বংশ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, নদীর পানির প্রবাহ রক্ষা করার জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে। এ উপজেলায়ও শুরু হবে। তখন শাখা যমুনা নদীটির সংস্কার করা হবে।


আরো সংবাদ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সেনা ও নৌবাহিনীতে অনারারি কমিশন প্রদান স্বাধীনতা দিবসের বাণীতে বিএনপি সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে দেশী-বিদেশী মহল ততপর শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ : পানিসম্পদ উপমন্ত্রী রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা আশেক গ্রেফতার এক মিনিট ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন ঘুষ না খাওয়ার শপথ পড়ালেন অর্থমন্ত্রী ঘুষ না খাওয়ার শপথ পড়ালেন অর্থমন্ত্রী ষ ঘুষ না খাওয়ার শপথ পড়ালেন অর্থমন্ত্রী ষ নারায়ণগঞ্জের এমপি খোকাকে নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ বিএনপি নেতা রবিউল আউয়ালের সন্ধান দাবি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গাইবান্ধার ৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

সকল