২৬ মার্চ ২০১৯

না’গঞ্জ কারাগারের ১৮৭১ বন্দীর স্বপ্নিল দেড় ঘণ্টা

-

১৮৭১ জন কারাবন্দীকে উজ্জ্বল জীবনের স্বপ্ন দেখালেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। কারাবন্দীরাও নেচে গেয়ে কিছুটা সময় জীবনের রঙিন স্বপ্নে বিভোর হলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে আনন্দঘন এই মুহূর্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে হয় মাদকবিরোধী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কারাবন্দীদের নিয়ে এ আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন নারায়ণগঞ্জ জেল সুপার সুভাস চন্দ্র সাহা।
কারাবন্দীদের মাদক দ্রব্য সেবন, বহন, পাচার ও ব্যবসার পথ পরিহার করে সুন্দর জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে। বেলা ৩টায় জেলা কারাগার ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় এক হাজার ৮৭১ কারাবন্দী অংশগ্রহণ করেন।
জেল সুপার সুভাস চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা মাদকদ্রব্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম ও গণপূর্ত অধিদফতর নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাব্বী মিয়া বলেন, ‘দেশী ও বিদেশী কুচক্রী মহল আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে যুবসমাজকে টার্গেট করেছে।
মাদক দিয়ে তারা যুবসমাজকে হতাশায় নিমজ্জিত রেখে বিপথগামী করতে চায়। মাদক ব্যবসায়ীদের ছেলে-মেয়েদের নামীদামি স্কুলে পড়াশোনা করাচ্ছে। তবে অন্যের সন্তানকে মাদক দিয়ে ধ্বংস করছে। মাদক পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, মাদকের সরবরাহ, চাহিদা ও ক্ষতি হ্রাস এ তিনটি কৌশল নিয়ে কাজ করে মাদকদ্রব্য অধিদফতর। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অবলম্বন করেছে। একই সাথে মাদকসেবীদের সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সুযোগও রেখেছেন। আর সেই সুযোগ হিসেবেই জেলখানাগুলোকে সংশোধনাগার হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।
এর আগে কারা পরিদর্শক বোর্ডের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কারা অভ্যন্তরে নির্মিত ‘রিজিলিয়ান্স’ গার্মেন্টসের উৎপাদিত পণ্য বিপণন ও অর্ডার প্রাপ্তির ব্যবস্থা, মহিলা বন্দীদের শিক্ষাকার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি মিনি স্কুল ও মাদ্রাসা নির্মাণ, মহিলা বন্দীদের পুনর্বাসনের জন্য সমিতির মাধ্যমে বিউটি পার্লার ও বিউটিফিকেশনের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, মাদকের থেকে বন্দীদের জন্য ডাক্তার দ্বারা মোটিভেশন ও সচেতনতা তৈরি, নতুন ছয়তলাবিশিষ্ট বিচারাধীন ভবন ও সেল নির্মাণকাজসহ কারাগারের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রসঙ্গত, ১২ একর জায়গায় নির্মিত নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ১৮৭১ জন কারাবন্দী রয়েছেন। তবে কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪০০ বন্দীর।


আরো সংবাদ