২৩ জুলাই ২০১৯

সোনারগাঁওয়ে একই পরিবারের ৭ জনকে পিটিয়ে জখম

তিন নারীর শ্লীলতাহানি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট
-

সোনারগাঁও পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ একই পরিবারের সাতজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল বুধবার সকালে সোনারগাঁও পৌরসভার কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ সময় মা ও মেয়ে তিনজনকে শ্লীলতাহানি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত সাজেদা বেগম বাদি হয়ে অভিযোগ করেছেন।
সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, সোনারগাঁও পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামের হানিফ মিয়ার জমিতে সোনারগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাইম আহম্মেদ রিপনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ৬ টাকা ফুট দরে বালু ভরাট করে। কিন্তু ওই সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ বালু ভরাট না করেই ৬ টাকা ৫০ পয়সা ভরাটকৃত বালু দাম নির্ধারণ করে টাকা দাবি করে। সিন্ডিকেটের দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করে হানিফ মিয়া অসম্পূর্ণ কাজ করার দাবি জানান। টাকা নেয়ার পর ওই সিন্ডিকেট বাকি কাজ করার জন্য টালবাহানা শুরু করে। এ নিয়ে সিন্ডিকেট ও হানিফ মিয়ার মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এর জেরে গতকাল বুধবার সকালে কাউন্সিলর নাইম আহম্মেদ রিপনের নেতৃত্বে আলম, মুজা, মাহিন, শামীম, মাইনউদ্দিন মেম্বার, জাকির ভূঁইয়াসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দা, রড, কাঠ ও বাঁশের লাঠি নিয়ে হানিফ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় তার স্ত্রী সাজেদা বেগম, বোন জামাই বশিরউদ্দিন ও ভাগিনা কাউসার এগিয়ে এলে তাদের ও পিটিয়ে আহত করে। পরে হানিফ মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে শামীমা ও আরেক মেয়ে সালমা এগিয়ে এলে তাদের পিটিয়ে আহত করে। এ সময় শামীমা ও সালমার কাপড়-চোপড় টেনে হেঁচড়ে শ্লীলতাহানি করে হামলাকারীরা। হামলার সময় বাড়িঘর, দরজা জানালা, সুকেস ও আলমারির গ্লাস ভাঙচুর করে।
সোনারগাঁও পৌরসভার কাউন্সিলর নাইম আহম্মেদ রিপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ঘটনা মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ঘটনার সাথে জড়িত নই। তবে অন্যদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ