১৯ মে ২০১৯

নিজ বুদ্ধিমত্তায় অপহরণকারী থেকে রক্ষা দুই তরুণের

-

নিজ বুদ্ধিমত্তায় অপহরণকারীর কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে একাডেমিয়া স্কুলের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক ও জাবির। দুর্বৃত্তরা অভিনব কৌশলে দু’জনকে অপহরণের উদ্দেশ্যে একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে তুলে নেয়। তবে দুর্বৃত্তদের কবল থেকে রক্ষা পেতে এ সময় তারা চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইশতিয়াকের পিতা সাংবাদিক সরদার ইকবাল জানান, তার ছেলে ও ছেলের সহপাঠী বন্ধু জাবির একাডেমিয়া স্কুলে (মালিবাগ ক্যাম্পাস) ও লেভেলের শিক্ষার্থী। ওই দিন দুপুরে সুইমিং ক্লাস শেষে দু’জন হেঁটে খিলগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিল। পথিমধ্যে মালিবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাটির মসজিদ এলাকায় রাস্তায় দাঁড়ানো একটি সিএনজি বেবিট্যাক্সির ভেতরে বসা জনৈক ব্যক্তি চিৎকার করে ইশতিয়াক ও জাবিরকে ডাকাডাকি করে। এ সময় তারা সিএনজির কাছে এগিয়ে যায়। তারা দেখতে পায় সিএনজিতে বসা ব্যক্তিদের একজনের পায়ে ব্যান্ডেজ। অপরজন চালকের পাশে বসা। কাছে যাওয়া মাত্র সিএনজিতে বসা ব্যক্তি তোমাদের ভেতরে মানবিকতা নেই বলেই দু’জনকে বকাঝকা করতে থাকে। একপর্যায়ে বলতে থাকে আমার পায়ের অবস্থা দেখে বুঝতে পারছ না। এভাবে কয়েক মিনিট ধরে দু’জনকে নানাভাবে কথা বলে মনগলাতে থাকে। একপর্যায়ে ইশতিয়াক ও জাবিরকে ভুলিয়েভালিয়ে সিএনজিতে তুলে নেয় তারা। সামনেই তার দোকানটি চিনিয়ে দেবে বলে সিএনজি চলতে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই ওই ব্যক্তি দু’জনকে মারধর করে হাতে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে অপহরণকারীর কবলে পড়েছে বলে ইশতিয়াক ও জাবিরের সন্দেহ হয়। এরই মধ্যে সিএনজি প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে গিয়ে খিলগাঁও ফ্লাইওভারে উঠে। একপর্যায়ে সিএনজির জানালা খোলা দেখে ইশতিয়াক ও জাবির ঝুঁকি নিয়ে লাফিয়ে পড়ে এবং চিৎকার করে। এ সময় দুই মোটরসাইকেল আরোহী এগিয়ে এলে সিএনজিটি পালিয়ে যায়। পরে ইশতিয়াক ও জাবিরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার পরপরই র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা রাস্তায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করছে বলে জানা যায়।


আরো সংবাদ