২৬ আগস্ট ২০১৯
কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব আটক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগ নেতার হাতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রহৃত

-

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সঙ্গীদের হাতে প্রহৃত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামিসহ ওই অফিসের তিন অফিস সহকারী। এ সময় অফিস কক্ষ ভাঙচুরও করা হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপুকে গ্রেফতার করলেও ঘটনার সাথে জড়িত তার সঙ্গিরা পালিয়ে গেছে।
হামলায় আহত অন্যরা হলেন- অফিস সহকারী শেখ মো: সেলিমুজ্জামান, মো: সাঈদুল ইসলাম ও বলাই চন্দ্র দাস। ঘটনার পর আহতদের স্থানীয় জনতা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ভাঙ্গা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামি সাংবাদিকদের বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিনিধি এনামুল হক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা বেলা ১১টার দিকে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামিকে প্রহার করেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এলে ওই অফিসের ভিএস ম্যাশন সাইদুর রহমান, মেকানিক্যাল সেলিমুজ্জামান ও বলাই কুমার দাসকেও প্রহার করা হয়।
রোববার সকালে আমি ও আমার সহকারীরা অফিস খুলতেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা আমার কাছে পাঁচটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল দাবি করেন। আমি আইনবহির্ভূত কোনো কাজ করতে পারব না বলতেই তারা আমার ওপর চড়াও হয়। আমি তাদের বোঝাতে চেষ্টা করলে তারা আমাকে বেদম প্রহার করার পর অফিস কক্ষের ভেতরে তালা দিতে যায়। এ সময় আমার অফিস সহকারীরা বাধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয়। তাদের আক্রমণের কারণে মোবাইল ফোনসহ বেশ কয়েকটি দামি জিনিস নষ্ট হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের অন্যরা এগিয়ে আসে এরপর তারা চলে যায়।
এ ঘটনার পর উপসহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামি বাদি হয়ে এনামুল হক অপু ও আকরামুজ্জামান রাজাকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এ ঘটনার পর। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাঈদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামির সাথে আওয়ামী লীগের দুই নেতার কথাকাটাকাটি এবং মারধরের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠাই। এরপর এনামুল হক অপুকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিমাদ্রী খীসা বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারত। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে মারধর কোনোভাবেই কাম্য নয়। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে এবং একজন আটক আছে। আমি আশা করব পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিকেও আটক করবে। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই সংবাদকর্মীদের কাছে কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। ঘটনার পর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা এলাকা ত্যাগ করেছেন বলে জানা যায়।

 


আরো সংবাদ