১৫ জুলাই ২০১৯
বিপুল রাজস্ব হারাবে সরকার

বাজেটে কর বৃদ্ধির ফলে জর্দা-গুল নকল হওয়ার আশঙ্কা

-

প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকের ট্যারিফমূল্য বৃদ্ধি করায় ব্যাপক হারে জর্দা, গুল ও তামাকজাত পণ্য নকল হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন বর্তমান দামে উন্নতমানের তামাকের দাম যেখানে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা; সেখানে এক কেজি তামাকের ট্যারিফ মূল্য ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা। তার সাথে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ সারচার্জ ধরা হয়েছে। অথচ বিগত ২০১৮-১৯ সালের বাজেটে প্রতিগ্রাম তামাকের ট্যারিফ মূল্য ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা। তার সাথে ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ সারচার্জ ছিল।
ফলে যেসব ব্যবসায়ী ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসায় পরিচালনা করেন প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে তাদের বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। অন্য দিকে যারা ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে নকল পণ্য উৎপাদন করে সরকারের শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মোটা অঙ্কের ব্যবসায় করে নেবে। কারণ তামাকজাত পণ্য তৈরি করা খুবই সহজ। যন্ত্রপাতিও তেমন প্রয়োজন হয় না। যে কেউ বাসাবাড়ির এক কোণায় জর্দা-গুল এসব তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া চোরাই পথে বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তামাকজাত পণ্য দেশে প্রবেশ করবে। যার ফলে সরকার বিশাল অফঙ্কর রাজস্ব হারাবে।
তামাক ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১৮-১৯ সালের বাজেটে প্রতিগ্রাম তামাকের ট্যারিফমূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করার পর তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে দেখা করে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। তারা প্রতিগ্রাম তামাকের ট্যারিফমূল্য গ্রামপ্রতি ৩০ পয়সা থেকে ৩৫ পয়সা করার দাবি জানান। রাজস্ব বোর্ড ব্যবসায়ীদের বিষয়টি সমন্বয়ক করার আশ^াস দিলেও পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রস্তাবিত বাজটে প্রতিগ্রাম তামাকের ট্যারিফমূল্য ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, তামাক ব্যবসায় চাইলেই বন্ধ করে দেয়া সম্ভব নয়। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে প্রতিষ্ঠিত ও নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায় গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে। পক্ষান্তরে যারা নকল ও অবৈধ উপায়ে ব্যবসায় করে তাদের ব্যবসার প্রসার হবে। এই অবস্থায় তামাক ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ অপরিবর্তিত রেখে প্রতিগ্রাম তামাকের ট্যারিফমূল্য ৩০ থেকে ৪০ পয়সা নির্ধারণ করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন, বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তামাকজাত পণ্যকে নিরুৎসাহিত করার জন্য অধিক হারে কর আরোপ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ