১৯ জুলাই ২০১৯

নিহতদের স্মরণ করলেন স্বজনেরা

মিরসরাই ট্র্যাজেডি
-

ফুলেল ভালোবাসা আর স্বজনদের চোখের পানিতে স্মরণ করা হলো আট বছর আগে মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহত ৪৫ স্কুল শিক্ষার্থীকে স্মরণ করল স্বজন, সহপাঠী, রাজনীতিবিদ ও আবুতোরাবের সর্বস্তরের মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার নিহতদের স্মরণে কুরআনখানি, দোয়া, কালোব্যাজ ধারণ, নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ আবেগ ও দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ অন্তিমে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র্যালি, স্মরণসভার মধ্য দিয়ে পালিত হলো মিরসরাই ট্র্যাজেডির অষ্টম বার্ষিকী। নিহতদের কবরেও পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ দোয়া মিলাদের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্মৃতিস্তম্ভ আবেগ ও অন্তিমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, নিহতদের স্বজনেরা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদ, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, মিরসরাই প্রেস ক্লাব, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১১ জুলাই সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে বাড়ি ফিরার সময় মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের দক্ষিণ সৈদালী এলাকায় ৭০-৮০ জন কিশোরকে বহনকারী একটি ট্রাক পাশের ডোবায় উল্টে যায়। যেখানে একসাথে ৩৮ জন ছাত্র ও এক অভিভাবক মারা যায়। পরে ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ৪৫ জনের মধ্যে ৪৩ জনই শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৪ জন, প্রাইমারি স্কুলের চারজন, আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসার দুইজন, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের দুইজন, একজন অভিভাবক ও দুইজন ফুটবলপ্রেমী মারা যায়।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এম আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার কবির আহম্মদ নিজামীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জসীম উদ্দিন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাইয়ুম নিজামী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত আরা ফেন্সী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিহির কান্তি নাথ, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবচার উদ্দিন, আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম নিজামী, আবুতোরাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার।
উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফ, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক নুরুল গনি, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ দিদার, সহদফতর সম্পাদক তোফায়ের উল্লাহ চৌধুরী নাজমুল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তানভির হোসেন তপু, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাশেল ইকবাল চৌধুরী।
আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘শোকের এ আট বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু হৃদয়বিদারক সেই ঘটনার ক্ষত এখনো শুকিয়ে যায়নি। কান পাতলেই শোনা যায় স্বজনহারা মানুষের কান্না।’


আরো সংবাদ