২৫ আগস্ট ২০১৯

বরগুনায় রিফাত হত্যা রাজনৈতিক চাপমুক্ত বিচার প্রত্যাশা মহিলা পরিষদের

-

মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময়ে একটা আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। দেশের আইনজ্ঞ, যারা আইনের ব্যাখ্যা করেন তাদের মধ্যে জেন্ডার সংবেদনশীলতা কতটুকু আছে, তা জানা দরকার। বহু গুরুতর অপরাধ, শত খুনের আসামির পাশেও তারা দাঁড়ান। নারী নির্যাতন না শুধু হত্যাকারীদের পাশেও দাঁড়ান। বহু হত্যাকাণ্ডে তারা আসামির পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী আসামিরও লিগ্যাল প্রটেকশন পাওয়ার অধিকার আছে। সুতরাং ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়, চাপ বা অন্য কারণে যা কিছু হোক না কেন মহিলা পরিষদ মনে করে ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, আইনানুগ, স্বচ্ছ তদন্ত হবে এবং আসামিরও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি দাবি করে। মহিলা পরিষদ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত, উচ্চমহলের প্রভাবমুক্ত, রাজনৈতিক বা উচ্চ প্রশাসনিক চাপমুক্ত বিচারিক প্রক্রিয়া প্রত্যাশা করে।
গতকাল পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন। প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃতি দিয়ে তারা বলেন, জানা যায় যে, গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় রিফাত শরীফের বাবা বরগুনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত ১৬ জুলাই মঙ্গলবার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হত্যার শিকার রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে।
মহিলা পরিষদ রিফাত হত্যার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে মনে করে, এখানে নারী, সহিংস আচরণ, মাদক, তরুণদের মাদকের সাথে জড়িত হওয়া, বিভিন্ন জনের গ্রেফতার হওয়া, র্যাবের হাতে মূল আসামি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অপরাধীর বিচার চায় বিচারিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, ০০৭ বন্ড বাহিনী গড়ে ওঠা, বড় ধরনের খুন, মাদক ব্যবসায় তরুণদের সম্পৃক্ততা; এসব বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। দ্রুতগতিতে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে রিমান্ডে নেয়া হলো, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকালকে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপির বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, মিন্নি জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। মিন্নি একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর দেননি।
মহিলা পরিষদ বিবৃতিতে আধিপত্যমুক্ত, কোনো ধরনের ভয়ভীতিমুক্ত বিচার দাবি করে। এর পাশাপাশি মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিযুক্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি জানায়। সেই সাথে সারা দেশে সংঘটিত নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।


আরো সংবাদ