১১ ডিসেম্বর ২০১৯

জোড়াগেট পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড়

-

কোরবানির পছন্দের পশু কিনতে শেষ মুহূর্তে সবাই ছুটছেন খুলনা সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত মহানগরীর সবচেয়ে বড় হাট জোড়াগেট পশুর হাটে। গত ৬ আগস্ট হাটের উদ্বোধন হলেও মূল বিক্রি শুরু হয় শুক্রবার বিকেল থেকে। আশপাশের হাটগুলো শেষ হওয়ায় ট্রাক ও ট্রলারভর্তি গরু এখন জোড়াগেটমুখী। নগরীর বেশির ভাগ ক্রেতা ঝামেলা এড়াতে পশু কিনতে আসেন এখানে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত পশু বিক্রি হবে। এবার ভারতীয় গরুর আমদানি কম থাকায় দাম অনেক বেশি বলে জানান ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বলেন, গতবার পানির দরে গরু বিক্রি করেছি। এবার বাজার ভালো মনে হচ্ছে। তারপরও মূল্য পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে হাট ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট সবাই।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, ভৈরবের কূল থেকে শুরু করে পুরো এলাকা গরু-ছাগলে ভর্তি। পুরো হাটে উৎসবমুখর পরিবেশ। গতবারের মতো মাঝারি সাইজের গরুর ক্রেতা এবারো বেশি। দিঘলিয়ার লাখোহাটি থেকে সাদা রঙের বিদেশী গরু নিয়ে এসেছেন ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, তার গরু এখনো পর্যন্ত হাটের সেরা। এটির দাম হাঁকিয়েছেন আট লাখ টাকা। গতকাল পর্যন্ত দাম উঠেছে চার লাখ টাকা; কিন্তু তাতে তিনি রাজি হননি। পাঁচ লাখ টাকা দাম উঠলে বিক্রি করবেন। যশোরের মনিরামপুরের গরু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী একটি গরু নিয়ে এসেছেন। দাম হাঁকিয়েছেন ছয় লাখ টাকা। গরু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি সাতটি গরু নিয়ে এসেছেন। গরুর দাম শুনলেই ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। গরু ব্যবসায়ী সিরাজ আলী জানান, বেশির ভাগ লোক শুধু দাম জিজ্ঞাসা করে চলে যায়। অথচ একটা গরুর পেছনে যে পরিমাণ খরচ তা না ওঠাতে পারলে বিপদে পড়তে হবে। রূপসা থেকে অস্ট্রেলিয়ান জাতের পাটনাই ছাগল নিয়ে এসেছেন বিক্রেতা শাহাজাহান মিয়া। তার দাবি, তার ছাগলই এবারের হাটের সেরা ছাগল। তিনি দাম হাঁকিয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। নড়াইল জেলার কালিয়া থেকে আসা গরুর বেপারী মফিজুর রহমান জানান, গত বছরের তুলনায় দাম বাড়েনি। ভুসি, খড়-কুটার যেভাবে দাম বেড়েছে তার সাথে সমন্বয় করে গরুর দাম বেড়েছে। তিনি একটি দেশী গরুর দাম চাইছেন ৬৫ হাজার টাকা। গরুপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। গরু কিনতে আসা সালাহউদ্দীন বলেন, পশুর দাম বেশি মনে হচ্ছে। দামে মিললে পছন্দ অনুযায়ী পশু কিনবেন।
ক্রয়-বিক্রয় কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে নিয়োজিত কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ জাহিদ হাসান নয়া দিগন্তকে বলেন, গতবার হাসিল আদায়ে আমাদের টার্গেটে পৌঁছতে পারেনি। এবার পরিবেশ ভালো মনে হচ্ছে। বিশেষ করে খামারি-ক্রেতা সবার মধ্যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তা ছাড়া বিক্রি হবে মূলত শুক্র, শনি ও রবি এই তিন দিন।
হাট পরিচালনা কমিটির প্রধান ও কেসিসির প্যানেল মেয়র-১ আনিসুর রহমান বিশ্বাস বলেন, কেসিসির ভেটেরিনারি দফতর ছাড়াও পশুসম্পদ বিভাগ থেকে চিকিৎসক ও ওষুধ রয়েছে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ের বুথসহ হাটের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা, র্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম দায়িত্ব পালন করছে। রাজস্ব আদায়ের স্থানে পাঁচটি ব্যাংকের বুথ রয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা বুঝে নিয়ে কেসিসি কর্মকর্তারা সরাসরি টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে সার্বক্ষণিক কাউন্সিলরদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিজস্ব সফটওয়ারে প্রতি সেকেন্ডে বিক্রি ও আদায়ের আপডেট রাখা হয়েছে। কেসিসির কাউন্সিলর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। হাটে আগত ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে এবার পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।


আরো সংবাদ

ভিপি নুরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় তদন্তের নির্দেশ অনুমতি ছাড়া বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না ডাকসুর উদ্যোগে ঢাবিতে বইমেলা শুরু স্পিকারের সাথে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ নতুন রঙে মুদ্রিত ৫০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট চালু ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু ৪ জানুয়ারি এনামুল বাছিরের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানালেন সেনাপ্রধান মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতি : সভাপতি আরিফ সম্পাদক সাজ্জাদ আবারো এক বছরের চুক্তিতে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দিন

সকল