২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ঈদ বোনাস না পেয়ে বিক্ষোভ

ছাতকে আকিজের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকেরা

-

সুনামগঞ্জের ছাতকের আকিজ প্লাস্টিক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেয়ার প্রতিবাদে এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করার ঘটনায় এক নারী কাউন্সিলরকে প্রধান আসামি করে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাসেল আহমদ নামের এক শ্রমিককে গ্রেফতার করা হলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কাজে যোগদান না করায় কারখানাটি এখন বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, ছাতক পৌর এলাকার শ্যামপাড়ায় অবস্থিত আকিজ প্লাস্টিক ও আকিজ ফুড কারখানায় দৈনিক হাজিরা বেতনে কাজ করে আসছেন এক হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিক। একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফুড বিভাগের শ্রমিকেরা ঈদের এক সপ্তাহ আগে উৎসব বোনাস পেলেও বঞ্চিত হন প্লাস্টিকের শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা উৎসব বোনাস পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছয় শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করে। এর ফলে শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কারখানায় কাজ করা বন্ধ করে দিলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদের পরে উৎসব বোনাস প্রদানের আশ্বাস দেন। ঈদের পরে কারখানা কর্র্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পাঁচ হাজার টাকার স্থলে দেড় হাজার টাকা করে ঈদ বোনাস দিলে শ্রমিকেরা আবারো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এর প্রতিবাদে গত ১৯ আগস্ট শ্রমিকেরা কারখানার গেটে জড়ো হয়ে ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কাউন্সিলর, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) বিল্লাল আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাপস শীল, থানার ওসি মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের কাজে পুনঃবহাল ও দেড় হাজার টাকা করে উৎসব বোনাস শ্রমিকদের স্যালারি অ্যাকাউন্টে জমা করার আশ্বাস দেন। এ ঘটনা নিষ্পত্তির পর শ্রমিকেরা কাজে যোগদান করেন। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই গত বুধবার রাতে জনপ্রতিনিধিসহ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাসেল নামের এক শ্রমিককে গ্রেফতার করে। এর জের ধরে শ্রমিকেরা আবার কারখানার কাজ বন্ধ করে দেন।
চাকরিচ্যুত শ্রমিক নজির আলী ও সুলতানা বেগম জানান, পেটের দায়ে দিনে সামান্য ২০০ টাকা বেতনে কাজ করি। এর মধ্যে নাইটে এক দিন অনুপস্থিত থাকলে এক সপ্তাহের বেতন কেটে নেয়া হয়। এ ছাড়া অফিসাররা আমাদেরকে কথায় কথায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। এ ছাড়া অনেক সময় নারীশ্রমিকদের কুপ্রস্তাব দেয়া হয়। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদের কারণে আমাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কারখানার অ্যাডমিন চৌধুরী মোয়াজ আবদুল্লাহ, ম্যানেজার সঞ্চয় পালসহ একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো কিছু জানাতে রাজি হননি।
সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর তাছলিমা জান্নাত কাকলী এ প্রসঙ্গে জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করার কারণে এবং নারীশ্রমিকদের নির্যাতন, অনৈতিক প্রস্তাব দেয়া ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা করেছে।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীল জানান, গত ১৯ আগস্ট আমাদের উপস্থিতিতে এক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের বোনাস ও চাকরিচ্যুতদের পুনঃবহালের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেয়। থানায় মামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

 


আরো সংবাদ