১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শাস্তি দিয়েও দুর্নীতি কমানো যাচ্ছে না : দুদক সচিব

-

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো: দিলোয়ার বখত বলেছেন, আইন আর শাস্তি দিয়েও দুর্নীতি কমানো যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার থেকেই অসদুপায় অবলম্বনে অনুপ্রাণিত করে। তাই আমরা নিজেরা সোচ্চার না হলে দুর্নীতি কমবে না।
পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলা মিলনায়তনে গতকাল বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত দুদকের ‘গণশুনানি’তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল শুধু সরকারি কর্মচারীদের জন্য নয়; এটি সবার জন্য। শুদ্ধাচার কৌশল চর্চা করলে দেশ এমনিতেই দুর্নীতিমুক্ত হবে।
নাগরিক সেবা ও সুবিধাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যাদি শ্রবণ ও নিষ্পত্তি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুদক এ গণশুনানির আয়োজন করে। অভিযোগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে সচিব বলেন, আমরা দেখেছি, জনগণ তথ্য চায় না। অথচ তথ্য অধিকার আইনে তথ্য দিতে বাধ্য সরকারি দফতরগুলো।
এ কর্মকর্তা বলেন, ২০০৪ সালে দুদক আইন প্রণয়ন করা হয়। মানুষের আগ্রহের কারণে অভিযোগ নিতে হটলাইন (১০৬) নম্বর চালু কারেছি। এতে যে কেউ অভিযোগ দিতে পারেন। এ ছাড়া ডাকযোগেও অভিযোগ গ্রহণ করি। দুদক বেনামী পিটিশন ফেলে দেয় না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিই।
গণশুনানিতে বাছাই করা ১৮টি অভিযোগের শুনানি হয়। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটির অভিযোগকারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আর ১৩টিই ছিল বেনামী। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৮-১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ‘সোলার প্রজেক্ট’র সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, লাইসেন্স প্রাপ্তিতে ‘বিআরটিএ’র ঘুষ গ্রহণ, পেনশন প্রাপ্তিতে ২ শতাংশ হিসাবরক্ষণ অফিসে উৎকোচ গ্রহণ, পিআইও, এলজিইডি, বিদ্যুৎ বিভাগ, হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি সেবা খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে অভিযোগ ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাহমুদ হাসান, রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শারমিন আলম, সহকারী পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউছার, উপজেলা চেয়ারম্যান সামশুদ্দোহা চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শতরূপা তালুকদার। পরে দুদক সচিব কাউখালীর ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন করেন।


আরো সংবাদ