২৪ অক্টোবর ২০১৯

বেসরকারি হাসপাতালে ৮০ শতাংশের বেশি ডেলিভারি সিজারে

-

দেশে বেসরকারি হাসপাতালে প্রসবের ৮০ শতাংশেরও বেশি সিজারের মাধ্যমে হয়ে থাকে, যা ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল হলেও সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। কারণ এ ধরনের ডেলিভারি মা ও শিশু দু’জনকেই ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয়। অনেক গর্ভবতী মা প্রায়ই ব্যথা আতঙ্কের কারণে সন্তান প্রসব করার জন্য অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হন। তবে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করার পরেও তাদের প্রসব-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।
গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইমপাল্স হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আইনুল কবীর প্রধান অতিথি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তপন কুমার বিশ্বাস বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: মো: তৌফিক ইসলাম এবং আয়ারল্যান্ড ওয়াটার ফোর্ড ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট জিন্নুরাইন জয়গিদার এবং পোর্টিয়নকুলা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: কাজী নাফিজা হামিদ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তৃতায় ইমপাল্স হেলথ সার্ভিসেস অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা: জাহের আল-আমিন বলেন, সিজারিয়ান কোনো মতেই স্বাভাবিক প্রসবের বিকল্প হতে পারে না। আবার আধুনিকতার নিরিখে প্রসবের সময় ব্যথাও কোনো মতেই কাম্য নয়। এসব চিন্তা করেই আমরা গত বছর থেকে ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি শুরু করেছি এবং যথেষ্ট সাফল্যও অর্জন করেছি। সিজারিয়ান প্রসবের কারণে মায়েরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। কারণ এটি একটি অপারেশন যা সাধারণ প্রসবের মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব। সাধারণ ব্যথাহীন নরমাল ডেলিভারির জন্য যা প্রয়োজন তা হচ্ছে একটি সুসজ্জিত ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত এনেসথিয়েসিস্ট, ২৪ ঘণ্টার জন্য সার্বক্ষণিক কনসালটেন্টদের উপস্থিতি, যার মাধ্যমে প্রি-ডেলিভারি, ডেলিভারি এবং ডেলিভারি-পরবর্তী সেবা দক্ষতার সাথে করা সম্ভব। তিনি বলেন, ইমপাল্স হসপিটাল হচ্ছে বাংলাদেশে একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেখানে মায়েরা পাবেন সর্বোত্তম ব্যাথাহীন স্বাভাবিক ডেলিভারি সেবা। আর আমরা রোগীর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডা: কাজী নাফিজা হামিদ বলেন, উন্নত বিশ্বে সব মা-ই ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি প্রত্যাশা করে থাকেন। তারা চান সন্তান প্রসব-পরবর্তী যেসব সেবার দরকার হয়, তাও হতে হবে ব্যথামুক্ত। এপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি ব্যবহার করলে রোগীরা সম্পূর্ণ ব্যথামুক্তভাবে তাদের সন্তান প্রসব করতে পারে।


আরো সংবাদ