২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এবার কটিয়াদীর ওসির আপত্তিকর ভিডিও

-

জামালপুরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নারী কেলেঙ্কারির ঘটনার পর এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানার ওসি আবু শামা মো: ইকবাল হায়াতের নামে নারী কেলেঙ্কারির আরো ভয়াবহ আপত্তিকর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও নিয়ে কিশোরগঞ্জে এখন তোলপাড় চলছে।
ভিডিওতে কটিয়াদীর এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (২৮) এক পুরুষের সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। ফেসবুক থেকে ফেসবুক মেসেঞ্জার, এরপর মোবাইল থেকে মোবাইলে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও এবং ভিডিওর ছবির বিষয়ে বলা হচ্ছে, ওই নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় যে পুরুষকে দেখা গেছে, তিনি কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শামা মো: ইকবাল ইকবাল হায়াত। তবে ওসি আবু শামা মো: ইকবাল হায়াতের দাবিÑ ভিডিওটি তার নয় এবং ভিডিওর ছবি কম্পিউটারে এডিট করে তার ছবির মতো করা হয়েছে।
এ দিকে এ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভিডিওতে থাকা ওই নারী বাদি হয়ে তার প্রেমিক কটিয়াদী কাঠ মহাল মোড়ের চরিয়ায়াকোনা এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে হিমেল (৩৪) এবং কটিয়াদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বাংলা টিভির কটিয়াদী প্রতিনিধি সৈয়দ মুরসালিন দারাশিকোর নামে গত সোমবার রাতে কটিয়াদী মডেল থানায় জিডিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই মামলার প্রধান আসামি হিমেল ও সৈয়দ মুরসালিন দারাশিকোকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তবে রাতেই মুচলেকা নিয়ে সাংবাদিক দারাশিকোকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। হিমেলকে গত মঙ্গলবার সকালে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের মাধ্যমে কোর্টে পাঠানো হয়। পরে তাকে জেলে পাঠানো হয়।
মামলায় ওই নারী জানান, ‘আসামি হিমেল ও আসামি সৈয়দ মুরসালিন দারাশিকো এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন আসামির সহায়তায় আমার ছবি কম্পিউটারের মাধ্যমে আকৃতি পরিবর্তন করে আমার পার্শ্বে থাকা ছবিটি ওসি সাহেবের বলিয়া মিথ্যামিথ্যিভাবে প্রচার করিয়া বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়াইয়া তাহার (ওসির) পারিবারিক সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœ করাসহ ওসি সাহেব একজন সরকারি কর্মচারী হওয়ার কারণে তাহার (ওসির) সুনাম ক্ষুণœ করিয়াছে।’ বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (তদন্ত) মো: মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শামা মো: ইকবাল হায়াত জানান, এ ঘটনায় একজন নারী বাদি হয়ে দু’জনের নামে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ মামলার প্রধান আসামি হিমেলকে গ্রেফতার করেছে। তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, তদন্তের স্বচ্ছতার স্বার্থে কটিয়াদী মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভিডিওটিও আমরা বিশ্লেষণ করে দেখছি। তদন্তের মাধ্যমে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।


আরো সংবাদ