১৫ নভেম্বর ২০১৯
ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন নিয়ে সভা

নদীগুলো দখলমুক্ত করার তাগিদ উন্নয়ন সহযোগীদের

-

সরকারের এক শ’ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘ডেল্টা প্ল্যান’ বাস্তবায়নে দেশের নদীগুলোকে দখলমুক্ত বা উদ্ধারের তাগাদা দিয়েছেন উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, ডেল্টা প্ল্যানের জন্য যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগে সেগুলোর মধ্যে থেকে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে। আর পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, এই উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় বর্তমান অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে পানি, কৃষি ও সেচ খাতে। ভাটির এই দেশের অনেক নদ-নদীর উৎস প্রতিবেশী দেশগুলো। সে জন্য এ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশ বা সংস্থাসহ ভারত, মিয়ানমার, চীন, নেপাল, ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে, আরো চাইবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল সরকারের ১০০ বছরের ডেল্টা পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী বিদেশী রাষ্ট্র/সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শবিষয়ক ‘কনসাল্টেশন উইথ ডেভেলপমেন্ট পার্টনার্স অন ইমপ্লিমেন্টশন : বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ আলোচনায় দাতাদের প্রতিনিধিরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, জাপান, ভারত, চীন, কুয়েত, নরওয়ে, ডেনমার্ক, জার্মানি, সুইডেন, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক, কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সিআইডিএ), ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি), জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (জিআইজেড), ইউনাইটেড ন্যাশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও আলোচনায় অংশ নেন।
উন্নয়ন সহযোগীরা ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। তারা বলেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে সহায়তার বিষয়টি আমরা আমাদের দেশ এবং সংস্থার কাছে পৌঁছে দেবো।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যেখান থেকে আমাদের নদ-নদীর পানি আসে, তাদের সাথে আমাদের সহযোগিতা আরো বাড়বে এবং এই সহযোগিতার মাধ্যমে এগোতে হবে। তিনি বলেন, এটা বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। মূল কথা, কাজটা আমরা স্বাবলম্বীভাবে করতে চাই। টাকা ধারের প্রয়োজন হবে, এতে কেউ অংশ নিতে চাইলে সানন্দে তাকে স্বাগত জানাব। আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা রয়েছেন, তাদের আমরা স্বাগত জানাব; কিন্তু আখেরে, আমাদের নিজেদের কাজ নিজেরাই করব। তিনি বলেন, এই বদ্বীপকে রক্ষা করতে হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে হবে, দারিদ্র্যকে মোকাবেলা করতে হবে। সে কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, আস্তে আস্তে এ কাজ বাড়বে।
পরিকল্পনামন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বছর অতিক্রম করে ফেলছি। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হাত দেয়া হবে। এমনকি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও হাত দেয়া হবে। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, দুর্যোগ মোকাবেলাসহ এ জাতির জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এ পরিকল্পনার আওতায় কাজ করা হবে। নিয়মিত এ পরিকল্পনা নবায়ন করা হবে।
পরিকল্পনাটি উপস্থাপনের সময় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও সিনিয়র সচিব অধ্যাপক ড. শামসুল আলম জানান, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি ফিজিক্যাল প্রজেক্ট এবং ১৫টি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ও দক্ষতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত প্রকল্প। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প রয়েছে এক হাজার ৫৬৪টি। এর মধ্যে ডেল্টা প্ল্যান সম্পর্কিত প্রকল্প রয়েছে ২৪৮টি। এসব প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ২১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ ছাড়া এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ।
শামসুল আলম জানান, ডেল্টা প্ল্যান সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোতে যা বরাদ্দ রয়েছে তার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে খরচ হবে ১৪ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা আসবে সাত হাজার ১৪১ কোটি টাকা।


আরো সংবাদ