১২ ডিসেম্বর ২০১৯
সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রতিমন্ত্রী

আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেয়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই

-

বাসাবাড়িতে পাইপলাইন গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আবাসিক এলাকায় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সংযোগ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার ও বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য হওয়ায় আবাসিকে গ্যাস সংযোগ স্থগিত আছে।
গতকাল বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান। সরকারদলীয় সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করে গ্যাস ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। ফলে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান স্থগিত রেখে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক খাতগুলোতে (শিল্প, সার ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে) অগ্রাধিকারভাবে গ্যাস সংযোগ প্রদান করায় সরকারের রাজস্ব বেড়েছে। একই সাথে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ অথনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখছে।
বিকল্প ধারার সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আব্দুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ছয়টি গ্যাস কোম্পানির আওতায় বর্তমানে ৪২ লাখ ৯০ হাজার গৃহস্থালি সংযোগ রয়েছে। গত অক্টোবর পর্যন্ত তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির আওতায় দুই লাখ ৬০ হাজার ৪৮৬টি প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। এই হিসাবে আবাসিকের ৬ শতাংশ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের আওতায় এসেছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত গৃহস্থালি, বিদ্যুৎ ও সার খাতে চারবার এবং শিল্প, ক্যাপটিভ পাওয়ার, চা ও বাণিজ্যিক খাতে পাঁচবার এবং সিএনজি খাতে ছয়বার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সব শ্রেণীর গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি দলের মমতাজ বেগমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে ও জ্বালানি ব্যবহার বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে দেশে আবিষ্কৃত কয়লার উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য নীতিমালা প্রণয়নসহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহিবুল হক মানিকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ঢাকা শহরের গ্যাসলাইন ৫০ বছরের পুরনো। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে এসব লাইন সংস্কার করেনি। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পুরো লাইনকে সংস্কারের জন্য এক হাজার দুই শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিগগিরই টেন্ডার আহবান করা হবে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে রাজধানীবাসী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।


আরো সংবাদ