১০ ডিসেম্বর ২০১৯
নূর হোসেন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য

রাঙ্গা ক্ষমা চাইলেন এবার সংসদে

-

নূর হোসেন ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নিজের নেতিবাচক মন্তব্যের জন্য এবার সংসদে ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।
তিনি বলেন, আমি একটা ভুল করেছি। এ জন্য এই সংসদে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি সংসদ সদস্যরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলেও আশা করেন তিনি।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে গতকাল রাতে সংসদে ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত প্রদানের জন্য ফ্লোর নিয়ে তিনি ক্ষমা চান। এর আগে মঙ্গলবার তিনি নূর হোসেনের মায়ের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তার ওই মন্তব্যের জন্য।
গত রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায নূর হোসেন ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর ছিলেন মর্মে নেতিবাজক মন্তব্য করেন রাঙ্গা। তার বক্তব্যের পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এ বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য এক লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত মঙ্গলবার নূর হোসেনের পরিবারসহ সবার কাছে ক্ষমা চান রাঙ্গা।
সংসদে তিনি বলেন, ১০ নভেম্বর ‘গণতন্ত্র দিবস’ নিয়ে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ একটি ছোট সভা ছিল। বাইরে কোনো মাইক ছিল না। ভেতরে সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে আমরা কথা বলি। একই দিনে ‘নূর হোসেন দিবস’ও ছিল। পুরান ঢাকা থেকে আমাদের কিছু লোক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। আসার পথে তারা নূর হোসেন চত্বরে শুনতে পান, এরশাদকে গালাগালি করা হচ্ছে। ‘এরশাদের দুই গালে, জুতো মারো তালে তালে’Ñ এ ধরনের কিছু কথাবার্তা শোনেন তারা। আমি দলের মহাসচিব হিসেবে তাদের শান্ত থাকতে বলি।
আমি একটা ভুল করেছি। এ জন্য আমি নূর হোসেনের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। এটি নিয়ে বিবৃতিও দিয়েছি।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি প্রতিমন্ত্রী থাকতে এই সংসদে অনেক কথা বলেছি। এই সংসদে দাঁড়িয়ে আমি অজস্রবার জয়বাংলা বলেছি, জাতির পিতা বলেছি। জাতির পিতা নিয়ে যদি আমি কোনো রকম ভুল বলে থাকি, তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা ২০১৪ সালে মহাজোটের সাথে নির্বাচন করেছি। শাজাহানসহ আমি সারা দেশে পরিবহন সচল রাখার জন্য কাজ করেছি। আঠারো দিন আমরা হেলিকপ্টারের মধ্যে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীকে আমি সন্ত্রাসবাদ-দুর্নীতিবাজ এগুলো বলিনি। বলেছি, বিশ্বজিৎ হত্যা ও জেলখানার হত্যার বিচার হয়েছে। ক্যাসিনোর বিচারও হয়েছে। ১৯৯০ সালের পরে খালেদা জিয়ার সময় কৃষক হত্যার কথা, একুশ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার কথা বলেছি। এর রেকর্ডও আছে। তারপরও ভুল করলে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। যারা কলিগ আছেন, ক্ষমা সুন্দর সৃষ্টিতে দেখবেন।।
জাতীয় পার্টির এই নেতা আরো বলেন, ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমার দল ক্ষমতায় এলেও মন্ত্রী হতে পারতাম না। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী করেছেন। আমাকে অনেক স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন। তার সাথে আমার এই ভালো সম্পর্কই থাকবে বলে আশা করি। কাউকে কটাক্ষ করে কিছু বলতে চাই না। আমার বলায় ভুল হতে পারে।
তিনি বলেন, এরশাদ গুলি করে মারুন বা না মারুন, এটি সত্য যে নূর হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে আমি চিঠি দিয়েছি। আমরা যেহেতু একসাথে এলায়েন্স করে নির্বাচনে এসেছি, তাই এ ভুলের জন্য আবারো সংসদে নিঃশর্ত ক্ষমা চাই।


আরো সংবাদ