১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

মুন্সীগঞ্জ আ’লীগের সভাপতিসহ কয়েক নেতার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

-

মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ এবং মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহীদুল ইসলাম শাহীনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার দখল দৌরাত্ম্য, লাগামহীন দুর্নীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন মুন্সীগঞ্জ এলাকাবাসীর পক্ষে মো: ফারুক হোসেন। দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগপত্রে ফারুক হোসেন বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারিতে সরকারি ৪০ শতাংশ জমিতে পাঁচতলা মার্কেট নির্মাণ করে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় করছেন। জেলা পরিষদে নিউমার্কেট নামে মুন্সীগঞ্জ শহরের বাজার এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবন নির্মাণ করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। মহিউদ্দিন আহমেদের তথাকথিত দ্বিতীয় স্ত্রী সোহানা তাহমিনা মুন্সীগঞ্জ শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারি প্রায় ৪৫ শতাংশ জায়গার ওপর টিনশেড দোকান তুলে ভাড়া দিয়েছেন। যেখান থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ ও তার কথিত স্ত্রী হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। উত্তর কোটগাওতে রয়েছে ১৫০ শতক জমি, ঢাকায় রয়েছে ৩টি ভবন। সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কাবিয়ারচরে রয়েছে সাড়ে ৯ বিঘা জমি। মুন্সীগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকায় সরকারি জমিতে স্বামী-স্ত্রী মিলে ২০টি দোকান বসিয়েছেন। সেখান থেকে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা উপার্জন করেন তারা। মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও লৌহজংয়ের বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে কয়েক শ’ কোটি টাকা নিয়ে সরকারি রাজস্বে অল্প কিছু টাকা দেখিয়ে লিজ দিয়ে দিয়েছেন মহিউদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ এমন মোট ২৭টি জায়গায় দোকান বসিয়ে সেখান থেকে মাসে প্রায় তিন কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করছেন তিনি। এ ছাড়া অভিযোগে মহিউদ্দিনের ভাই সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিসউজ্জামান আনিস, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া আফসু, মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহিন এবং মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল কবিরের (মাস্টার) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট ও পদ বাণিজ্য করে গত ১০ বছরে বিপুল অঙ্কের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করেন ফারুক হোসেন।


আরো সংবাদ