১০ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজধানীর সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত নমনীয়

৭৯টি মামলা ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা জরিমানা
-

নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের দ্বিতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোট ৭৯টি মামলা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সড়ক পরিবহন আইন গত রোববার থেকে কার্যকর করা হলেও সোমবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালায় বিআরটিএ। তবে আইন প্রয়োগে পুলিশ এখনো কঠোর হয়নি। গতকাল অনেকটাই নমনীয় ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় মামলা ও জরিমানার আতঙ্কে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিকের তুলনায় যানবাহন কম ছিল। ফলে সকাল থেকেই দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিভিন্ন রাস্তায় সকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষের ভিড় বেশি দেখা গেছে। বাস না পেয়ে অনেক মানুষকে অন্য পরিবহনে বা হেঁটেও যেতে দেখা গেছে।
গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হলেও ১৭ নভেম্বর রোববার থেকে এ আইনের বাস্তবায়ন শুরু হয়। এ কারণে বাস চলাচল কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ ও বাস মালিকরা।
গতকাল সকালে মগবাজার ওয়্যারলেস মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়েও বাস না পেয়ে হাঁটা শুরু করেন গন্তব্যে। তিনি বলেন, নতুন আইন বাস্তবায়ন হওয়ায় সড়কে বাস চলাচল কম। দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর হঠাৎ করে একটার দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু যাত্রীদের চাপে তাতে চড়াও দুষ্কর। তিনি বলেন, এতেই বোঝা যায়, গাড়ি চালাতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন তা রাজধানীর গাড়ি চালকদের নেই বললেই চলে।
গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার, বিজয় সরণি, সাতরাস্তা, বাংলামোটর, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, গুলিস্থানসহ কয়েকটি স্থান ঘুরে সড়কে যান চলাচল কম দেখা গেছে। এ কারণে সকালে অফিসগামী লোকজন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। তাদের অনেককেই বিকল্প পরিবহন বা হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
গতকাল বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রাজধানী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে। সকাল থেকেই একে একে বেসরকারি বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় কয়েকজন পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, বিআরটিসির বাস ধরা হয় না কেন? পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ সাদিয়া তাজনীন বিআরটিসির একটি দোতলা বাস (নম্বর- ঢাকা মেট্রো ব ১১-৫৮১২) থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করেন।
ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান, লাইসেন্সের জন্য দেয়া আগের মামলার জরিমানা দেয়া হয়েছে। কিন্তু লাইসেন্স তোলা হয়নি। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট চালককে বলেন, এভাবে লাইসেন্স ছাড়া আপনি গাড়ি চালাতে পারবেন না।
এরপর বাস ডিপোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে ফোনে কথা বলেন এবং লাইসেন্সবিহীন চালককে দিয়ে আর বাস না চালানোর নির্দেশ দেন। ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ সাদিয়া বলেন, আমরা সব ধরনের পরিবহনের কাগজপত্র দেখছি। এখানে কোনো বিভেদ নেই। অভিযানকালে ওই স্থানে মোট ১১টি যানবাহনকে মামলা ও জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে তিনটি যাত্রীবাহী বাস রয়েছে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়াও গতকাল মাতিঝিল, উত্তরা, মিরপুর-১৩ ও নিউ মাকেটসহ সাতটি স্থানে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় ৭৯টি মামলা ও ১ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান ড. কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সড়কে বিভিন্ন অপরাধে সহনীয় মাত্রায় জরিমানা আদায় করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানার অঙ্ক বাড়তে পারে। তিনি জানান, প্রথম দিকে গাড়ির ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স না থাকা, যানবাহন রঙচটা হওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো ঘটনায় মামলা দিতে শুরু করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ করে একেবারে না করে ধীরে ধীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এখনো ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছি। এর জন্য সময় লাগবে।


আরো সংবাদ