১১ ডিসেম্বর ২০১৯

যৌন হয়রানির অভিযোগে টেনিস ফেডারেশনের সেক্রেটারি বহিষ্কার

-

ক্রীড়াঙ্গনে যৌন হয়রানি চলছেই। ভারোত্তোলন, অ্যাথলেটিক্সের পর এবার যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটল টেনিস ফেডারেশনে। এই গুরুতর অভিযোগ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোর্শেদের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে বুধবার মামলা হয়েছে গুলশান থানায়। মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই খেলোয়াড়ের চাচা। যৌন হয়রানির শিকার ১৬ বছরের ওই খেলোয়াড় প্রবাসী এক টেনিস খেলোয়াড়ের মেয়ে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে গোলাম মোর্শেদকে। গতকাল বৃহস্পতিবার তার জায়গায় ক্রীড়া পরিষদ সচিব মাসুদ করিমকে টেনিস ফেডারেশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
এজাহারে ভুক্তভোগীর চাচা জানান, আইটিএফ জুনিয়র টেনিস খেলতে ২ নভেম্বর বাংলাদেশে আসে আমার ভাতিজি। ফেডারেশন সেক্রেটারি গোলাম মোর্শেদের মাধ্যমে সে উঠেছিল ঢাকা ক্লাবের গেস্টহাউজে। ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ২০ মিনিটে গোলাম মোর্শেদ আমার ভাতিজির রুমে এসে তাকে তার সাথে ডিনার করার প্রস্তাব দেয়। আমার অপ্রাপ্ত বয়স্কা ভাতিজি তাতে রাজি হয়। গোলাম মোর্শেদ তখন তাকে গাড়িতে করে তার গুলশানের বাসায় নিয়ে তাকে মদ ও সিগারেট পানের প্রস্তাব দেয়। গাড়িতে থাকার সময় গোলাম মোর্শেদ আমার ভাতিজির শ্লীলতাহানি করে এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলে। পরে তিনি আমার ভাতিজিকে নিয়ে একটি কফিশপে যান। কফি খাওয়ার পর আমার ভাতিজি তাকে ঢাকা ক্লাবে পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি পুনারয় তাকে বাসায় নিয়ে যান এবং কুপ্রস্তাব দেন। এরপর আমার ভাতিজি প্রতিবাদ করলে গোলাম মোর্শেদ একটি গাড়ি ভাড়া করে তাকে পৌঁছে দেয়। আমার ভাতিজি হতাশগ্রস্ত হয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে ১৪ নভেম্বর আমেরিকা চলে যায়। আমার ভাই এবং ভাতিজির সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানার পর এজাহার দায়ের করি।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন গুলশান থানার ডিউটি অফিসার এসআই সিনথিয়া। তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১০ ধারায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। একমাত্র আসামি টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোর্শেদ।


আরো সংবাদ