১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে হয়রানি তদন্ত করতে আইজিকে নির্দেশ

-

উত্তরা (পূর্ব) থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানসহ কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার অভিযোগ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসাথে আইজির কাছে করা আবেদন নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
শুনানি কালে হাইকোর্ট বলেছেন, কিছু পুলিশ সদস্য দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বানিয়ে নিচ্ছে। এদের সংখ্যা কোনোভাবেই ৫ শতাংশের বেশি হবে না। ওইসব পুলিশ সদস্য মনে করে তারা দুর্নীতি করলে তাদের কিছু হবে না।
সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখার কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল ও এক নারী কর্মকর্তার করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। পুলিশ দুর্নীতি করলে কিছুই হয় না। দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বানাচ্ছে তারা।
রিটের শুনানিতে আদালত বলেন, পুলিশ অপরাধ করলে কিছু হয় না। ৫ শতাংশ পুলিশের জন্য পুরো বাহিনীর বদনাম হচ্ছে। এদের সংখ্যা ৫ শতাংশের বেশি না।
এর আগে গত ২৭ জুন রাত ১১টার সময় মতিঝিল শাখার সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল তার এক নারী সহকর্মীর সাথে উত্তরার ভূতের আড্ডা রেস্টুরেন্ট থেকে রাতের খাবার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় ন্যামপ্লেটহীন এক পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম খলিলকে উত্তরা পূর্ব থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা ইব্রাহিমকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ইব্রাহিম আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরে এএসআই মোস্তাফিজ ইব্রাহিমের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। তবে, আহত অবস্থায় ইব্রাহিম ৬ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পান। পরবর্তীতে তাকে বাকি ১৪ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য বলে ইব্রাহিম কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এর কিছুদিন পর পুলিশের ওই এএসআই ইব্রাহিমের নারী কলিগকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে বলেন এবং দেখা করলে অবশিষ্ট ১৪ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে না বলে জানান।
এরপর এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশের আইজি বরাবর অভিযোগ করেন ইব্রাহিম। একইসাথে নারী কলিগের সাথে পুলিশ কর্মকর্তার কলরেকর্ডিং, মেডিক্যাল সার্টিফিকেটও দাখিল করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গত ২৫ জুলাই ইব্রাহিম হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত জড়িত পুলিশদের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেন।


আরো সংবাদ