২৬ জানুয়ারি ২০২০

নিহত শিক্ষার্থী রুম্পার বন্ধু সৈকত আটক

-

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বন্ধু আব্দুর রহমান সৈকতকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর তাকে আটক করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন।
গত বুধবার রাতে মালিবাগের শান্তিবাগের বাসা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের এক গলি থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করা হয়। আশপাশের কোনো ভবন থেকে পড়ে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করলেও কিভাবে এ ঘটনা ঘটেছে বা পড়ার আগে তার ওপর নির্যাতন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিডিনিউজ।
রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে দুই দিন ধরে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রুম্পার পরিবারেরও অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মেয়েটিকে। আর রুম্পার সাবেক প্রেমিককে নিয়ে সন্দেহের কথা বলেছেন তার সহপাঠী এক বান্ধবী। কথিত ওই সাবেক প্রেমিকই সৈকত বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
রুম্পার মৃত্যু রহস্যজনক মনে হওয়ায় রমনা থানার এসআই আবুল খায়ের সেই রাতেই অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশ ছাড়াও গোয়েন্দা পুলিশ ওই মামলার তদন্ত করছে জানিয়ে মাসুদুর রহমান বলেন, গত সন্ধ্যার পর খিলগাঁও এলাকা থেকে সৈকতকে আটক করা হয়েছে।
২২ বছর বয়সী সৈকত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিবিএর ছাত্র বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিলেন রুম্পা। তার বাবা রোকনউদ্দিন পুলিশ পরিদর্শক। রুম্পার একমাত্র ভাই আশরাফুল খিলগাঁও আইডিয়াল কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। চাকরির কারণে পুলিশ কর্মকর্তা রোকনউদ্দিন থাকেন হবিগঞ্জে। আর তার পরিবারে থাকে ঢাকার মালিবাগে শান্তিবাগের বাসায়।
পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার এস এম শামীম জানান, রাস্তার যে জায়গায় রুম্পার লাশ পড়েছিল, তাতে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সসহ তিনটি ভবনের যেকোনো একটি থেকে সে পড়ে থাকতে পারে। তিনটি ভবনের ছাদে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ ছাড়াও একটি ভবনের ৫ ও ৮ তলা দিয়ে নিচে পড়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে শামীম বলেন, রুম্পা ভবন থেকে পড়ে মারা গেছে, না নির্যাতনের পর লাশ ফেলে দেয়া হয়েছেÑ সেটা তদন্ত শেষ না করে বলা মুশকিল। পুলিশ যখন রুম্পার মৃত্যু রহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না তখন তার এক বান্ধবী স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী একটি টেলিভিশনকে বলেন, একটি ছেলের সাথে রুম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিল গত কয়েক মাস। কিন্তু সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে টানাপড়েন ছিল।


আরো সংবাদ