২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

প্রতিশোধ নিতেই চিকিৎসক সারোয়ার আলীর ওপর হামলা

-

খারাপ আচরণের প্রতিশোধ নিতেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি চিকিৎসক সারোয়ার আলীর বাসায় ডাকাতির চেষ্টা ও হামলা করা হয়েছিল। সারোয়ার আলীর পরিবারকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছিল ডাকাতির পরিকল্পনা। আর এ সবই করে তার সাবেক গাড়ি চালক শেখ নাজমুল ইসলাম (৩০)। নাজমুলের দাবি, হিন্দি সিনেমা দেখায় ও গরিব হওয়ার কারণে ম্যাডাম (সারোয়ার আলীর স্ত্রী) তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না। যে কারণে গত ৫ জানুয়ারি রাতে উত্তরায় সারোয়ার আলী ও তার মেয়ের বাসায় হামলা চালায় সে ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় নাজমুলসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার অন্যরা হলো শেখ রনি (২৫), মনির হোসেন (২০) ও ফয়সাল কবির (২৬)। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেছে পিবিআই। গত বুধবার মধ্যেরাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি আলোচিত এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ফরহাদ নামে এক যুবককে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাকিদের গ্রেফতার করা হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত আল আমিন মল্লিক ও নূর মোহাম্মদ নামে দু’জন এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পিবিআইয়ের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তদন্ত সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজকুমার মজুমদার।
তিনি বলেন, নাজমুল হিন্দি সিনেমার ভক্ত। তিনি ভাবতেন, গরিব হওয়া তার অপরাধ না। গরিব হওয়ার কারণে ম্যাডামের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাচ্ছেন না। এ কারণে চাকরি ছেড়ে দেন এবং মনে মনে প্রতিশোধের পরিকল্পনা করতে থাকেন। উচিত শিক্ষা দিতে নাজমুল ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। তার এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে কাজে লাগান তারই চাচাতো ভাই রনি, ভগ্নিপতি আল আমিন, নুর মোহাম্মদ ও ফয়সালকে। নাজমুল আজমপুরে থাকা মনির ও ফরহাদকে ৫০০ টাকা ভিত্তিতে ডাকাতিতে নিয়োগ দেন। এখানেই শেষ নয়, কেউ যাতে তাকে চিনতে না পারে সে জন্য নাজমুল তিন মাস টানা গোঁফ ও দাড়ি কাটেনি। তিনি জানান, ঘটনার দিন পাঁচ জানুয়ারি বিকেলে আশকোনা এলাকার হোটেল রোজ ভ্যালির ৩০৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করে এবং তাদেরকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে নাজমুল। কিন্তু নাজমুল তার ভেতরের ক্ষোভের বিষয়টি সবার কাছেই গোপন করেছিল। নাজমুল হোটেল থেকে বের হয়ে সাতটি চাপাতি ও পাঁচটি ছুরি কিনে তা রনির হাতে দেয়। রনি সেগুলো অন্যদের হাতে বিতরণ করেন। ঘটনার আগ মুহূর্তে রাত ৯টায় নাজমুল ওই বাসায় প্রবেশ করে এবং বাসার দারোয়ান হাসানকে অজ্ঞান করতে চার প্যাকেট বিরিয়ানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খেতে দেয়। দারোয়ান ঘুমিয়ে পড়লে সে হাতে থাকা চাপাতিগুলো গ্যারেজের পাশে রেখে দিয়ে আসে। এরপর নাজমুল ও ফয়সাল তৃতীয় তলায় যায়। সেখানে সারোয়ার আলীর মেয়ে সায়মা আলীর বাসায় নক করেন। তার মেয়ে দরজা খুললে নাজমুল ও ফয়সাল ধাক্কা দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে তাকে ও তার জামাইসহ মেয়ে অহনা কবিরকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করে। এরপর রাত ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে ফয়সালকে তৃতীয় তলার নিয়ন্ত্রণ রেখে নাজমুল চতুর্থ তলায় সারোয়ার আলীর ফ্ল্যাটে এসে নক করে। দরজা খুলে দিতেই জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে এবং সারোয়ার আলীকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে মেঝেতে ফেলে গলায় ছুরি ধরে। এ দৃশ্য তার স্ত্রী মাখদুমা নার্গিস দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারের সময় নাজমুল তার বাইরে থাকা সহযোগীদের ফোনে ডাকতে থাকেন। নার্গিসের চিৎকার শুনে পাশের ভাড়াটিয়া মেজর (অব:) সাহাবুদ্দিন চাকলাদার ও তার ছেলে মোবাশ্বের চাকলাদার ওরফে সজীব ছুটে আসে। এরপর ভয়ে দ্রুত পালিয়ে যান নাজমুল।


আরো সংবাদ