২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০
দুই বাসের প্রতিযোগিতা

প্রথম বাসের ধাক্কায় রাস্তায় দ্বিতীয়টির চাপায় নিহত

-

প্রথম বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন ওমর ফারুক তুহিন। কিছুটা আহত হলেও বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ধাক্কা দেয়া বাসটিও তাকে পাশকাটিয়ে সামনে চলে যায়। কিন্তু পেছনে থাকা দ্রæতগতির অপর বাসের কবল থেকে আর রক্ষা হয়নি তার। দ্বিতীয় বাসটির চাপায় থেঁতলে যায় তুহিনের শরীর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ এলাকায় এভাবেই বাসের ধাক্কায় ওমর ফারুক তুহিন (২৮) নিহত হন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল সকালে মতিঝিল থেকে কাজ শেষ করে তুহিন মোটরসাইকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীর বাসায় ফিরছিলেন। পথে সায়েদাবাদ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মেসার্স কামাল টিম্বারের কাছে পৌঁছলে আশিয়ান সিটি ও তুরাগ পরিবহনের দু’টি বাসের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পেছনে থাকা তুরাগ পরিবহনের বাসটি আশিয়ানের সামনে যাওয়ার জন্য দ্রæতগতিতে ছুটছিল। আর তাকে ঠেকানোর জন্য বেপরোয়া গতিতে চলতে শুরু করে আশিয়ানের বাসটি। ঠিক তখনই আশিয়ানের বাসটি পেছন থেকে তুহিনের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে যান। তিনি মাটিতে পড়ে গেলেও বাঁচার জন্য বাসটিকে পাশ কাটিয়ে সরে যান। আশিয়ান বাসটি তাকে পাশকাটিয়ে সামনের দিকে চলে যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। আশিয়ানের পেছনে পেছনে থাকা তুরাগ পরিবহনের অপর একটি বাস রাস্তায় পড়ে থাকা তুহিনকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তুহিন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে বিকেল ৩টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে যাত্রাবাড়ীর থানার এসআই আহমেদ নওয়াজিশ জানান, নিহত তুহিন মোটরসাইকেল চালানোর সময় এক হাত দিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। অপর হাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এক হাতে চালানোর কারণে মোটরসাইকেলের ওপর তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না। আবার দু’টি বাসেরই গতি ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। প্রথম বাসটি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেলেও পেছনে থাকা দ্রæতগতির বাসটি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি। যার কারণে তুহিনকে চাপা দিয়ে গুরুতর আহত করে। পুলিশ বাস দু’টি জব্দ করে চালকদের গ্রেফতার করেছে।
নিহতের মামা মহসিন কবির জানান, তুহিন ব্যক্তিগত কাজে মতিঝিল গিয়েছিল। পরে আবার বাসায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সে উত্তর কুতুবখালী ৪ নম্বর মসজিদ রোডের ১৯ নম্বর বাসায় থাকত। গ্রামের বাড়ি ল²ীপুরের রামগতি উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। পান্থপথে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করত সে।


আরো সংবাদ