২০ আগস্ট ২০১৯

সালমার স্বামীর বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীর যত অভিযোগ

সালমার স্বামীর বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীর যত অভিযোগ - ছবি : সংগৃহীত

‘ক্লোজআপ ওয়ান তারকা’ সঙ্গীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার দ্বিতীয় স্বামী সানাউল্লাহ নূরীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার প্রথম স্ত্রী তাসনিয়া মুনিয়াত পুষ্পী। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নূরীর সাথে তার বিয়ের বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, ‘নূরী একজন প্রতারক।’ পুষ্পী জানান, ২০১৬ সালের ৩ জুন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে এই সানাউল্লাহ নূরী তাকে বিয়ে করেন। পুষ্পীর অভিযোগ, সানাউল্লাহ তার সাথে প্রতারণা করে সালমাকে বিয়ে করেছেন। এ ছাড়া তাকে শারীরিক নির্যাতন ও তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে। পুষ্পী ধানমন্ডি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলএম শেষ বর্ষের ছাত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে পুষ্পীর বাবা বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা অধ্যাপক এম আখতার আলম এবং মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দিলারা খানম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার বাবা আখতার আলম বলেন, ‘আমার মেয়ের সাথে সানাউল্লাহ ও তার পরিবারের অপরাধের শাস্তি দাবি করছি। সেই সাথে আমাদের কাছ থেকে যেসব অর্থ নেয়া হয়েছে এবং আমরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, এসবের ক্ষতিপূরণও দাবি করছি।’
নিজের সাথে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তাসনিয়া মুনিয়াত পুষ্পী বলেন, ‘২০১৬ সালের ৩ জুন সানাউল্লাহ নূরী ও আমার বিয়ে হয়। কিছুদিন সংসার জীবন সুখকর থাকলেও একপর্যায়ে সানাউল্লাহ ও তার বাবা-মায়ের লোভাতুর মনমানসিকতার কারণে তা জটিল আকার ধারণ করে। আমাকে বিয়ে করলেও সানাউল্লাহ আমার ভরণপোষণ দিতেন না। উপরন্তু প্রতি মাসে আমি বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এনে সংসারের খরচ চালাতাম। একমাত্র মেয়ে হওয়ায় আমার সুখের কথা চিন্তা করে বাবা-মা সব চাওয়া পূরণ করতেন।’

পুষ্পী বলেন, ‘এর মধ্যে সানাউল্লাহ লন্ডন যাওয়ার কথা বলেন। এ জন্য আমাদের কাছে ১০ লাখ টাকাও দাবি করেন তিনি। আমার মা তার চাকরির বিপরীতে রূপালী ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সাড়ে ছয় লাখ টাকা সানাউল্লাহর ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা তার বাবা-মাকে দেন। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে সেবার লন্ডন যাওয়া বাতিল হয়।’

‘এরপর সেই ১০ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা করার কথা বলেন তিনি। ব্যবসার উদ্দেশে আমরা শ্বশুর-শাশুড়িসহ কক্সবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করি। এর মধ্যে সানাউল্লাহ আবার ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। আবার এত টাকা দেয়া সম্ভব নয় জানালে তারা সবাই আমাকে ২০১৮ সালের ৫ জুলাই কক্সবাজারের বাসায় অমানসিক নির্যাতন করে। এর আগে ঢাকায় থাকার সময়ও আমার ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। তখন আমি জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাধীন ছিলাম’, বলে উল্লেখ করেন পুষ্পী।

৫ জুলাইয়ের ঘটনায় কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বাদি হয়ে তাসনিয়া মুনিয়াতের মা দিলারা খানম মামলা করেন। কক্সবাজারের মামলায় উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করায় সানাউল্লাহ কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
পুষ্পী জানান, ২০১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সানাউল্লাহ নূরী বার-অ্যাট ল করতে লন্ডন যান। যাওয়ার পর দুই-এক দিন যোগাযোগ রক্ষা করে একপর্যায়ে হঠাৎ তা বন্ধ করে দেন। এর মধ্যে তিনি লন্ডন থেকে এসে ওই বছরেরই ৩১ ডিসেম্বর ক্লোজআপ তারকা কণ্ঠশিল্পী সালমাকে বিয়ে করেন।
পুষ্পী জানান, বিভিন্ন মহল থেকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন পুষ্পী ও তার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে পুষ্পীর মা দিলারা খানম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সঙ্গীতশিল্পী সালমা ২০১১ সালে রাজনীতিবিদ শিবলী সাদিককে বিয়ে করেন। এর মাঝে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। এরপর সালমা গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নূরীকে বিয়ে করেন।


আরো সংবাদ