২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ

বিসিএসে টেকনিক্যাল ক্যাডার চালুর দাবিতে বাকৃবিতে ক্লাস বর্জন

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্ম হন শিক্ষকরাও - ছবি : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) টেকনিক্যাল ক্যাডার চালুসহ চাকরির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনুষদের সকল ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।

মানববন্ধন চলাকালে অনুষদের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকরা এসেও আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

ইমরান সিদ্দিকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: নূরুল হক, ফার্ম স্ট্রাকচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. মো: রায়হানুল ইসলাম, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রফেসর ড. মো: মঞ্জুরুল আলম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন মিঠু, অতীশ বড়ুয়া, আব্দুর রহমান, কৌশিক, মাশহুর প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনান্য অনুষদের ন্যায় বিসিএসে টেকনিক্যাল ক্যাডার চালু করার জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৪ সালে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরী অনুষদের যাত্রা শুরু হয়। প্রতি বছরই কৃষি প্রকৌশলী হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহুসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ক্রমশই কমে যাচ্ছে কৃষি প্রকৌশলীদের চাকরির ক্ষেত্র। নেই কোনো টেশনিক্যাল ক্যাডার সার্ভিস। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনান্য অনুষদের শিক্ষার্থীরা তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও কৃষি প্রকৌশলীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, বর্তমান সরকার কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া আনতে ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার লক্ষ্যে যান্ত্রিকীকরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আর এটি কেবল সম্ভব প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে একজন করে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগ দানের মাধ্যমে। কিন্তু কৃষি প্রকৌশলীদের জন্য কোনো সিভিল সার্ভিসে কোনো টেশনিক্যাল পদ নেই। ফলে সন্তোষজনক চাকরি না পেয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ার কারণে কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া তেমনভাবে লাগছে না। এ বিষয়ে তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: নূরুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আমরা কাজ করছি। দ্রুতই এর সমাধান করতে পারব বলে আশা করছি।


আরো সংবাদ