২৪ অক্টোবর ২০১৯

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি : আবারো ভয়াবহ ভাঙ্গন

আবারো পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় দফা ভাঙ্গনে মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের হাসপাতালসহ শতাধিক ঘর বাড়ি বিলীন হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙ্গন ঝূকিতে রয়েছে ৫টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাসপাতালসহ বহু স্থাপনা ফসলি জমি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

একাধিক সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরে প্রথম দফা আগস্টে শিবচর উপজেলার চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি ও বন্দরখোলা এই ৩ টি ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। সে দফায় একটি মাদ্রাসা, ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি , ব্রীজ কালভার্ট, ফসলি জমি পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়। ভাঙ্গন মুখে রয়েছে ৩টি স্কুল ভবনসহ ৫টি স্কুল, ২টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র-কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হাটবাজারসহ ৩ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা, হাজারো বসত বাড়ি। এছাড়া আড়িয়াল খাঁ নদী তীরবর্ত্তী সন্নাসীরচর ও শিরুয়াইল ইউনিয়ন দুটিও আড়িয়াল খার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

গত ১ আগষ্ট ভাঙ্গনের ভয়াবহতা পরিদর্শনে আসেন চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাৎক্ষনিক নির্দেশে পদ্মা নদীর ২টি গুরুত্বপূর্ন স্থান ও আড়িয়াল খা নদের ২টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করলে ভাঙ্গনের গতিবেগ কমে আসে। কিন্তু গত ২৪ ঘন্টাসহ কয়েক দিনের অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে তীব্র স্রোতের তোড়ে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ রুপ নেয়। ফলে সোমবার দুপুরে ভাঙ্গনের ব্যাপকতা বেড়ে চরাঞ্চলের দ্বিতল বিশিষ্ট কাঠালবাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটির অধিকাংশ বিলীন হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফা ভাঙ্গনে চরাঞ্চলের ৩ ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিতরা ঘর বাড়ি নিয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে। ঝূকিতে রয়েছে বিস্তৃর্ন জনপদ। ভয়াবহ ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে ৫টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাসপাতালসহ বহু স্থাপনা ও ফসলি জমি।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মো. আল নোমান বলেন, গত ২৪ ঘন্টাসহ কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন আবারো তীব্র আকার ধারন করেছে।চরের একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শতাধিক ঘরবাড়ি ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।  চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী মহোদয় সার্বক্ষনিক খোজখবর রাখছেন। আমরা দফায় দফায় আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। 


আরো সংবাদ