১৫ নভেম্বর ২০১৯

হত্যা মামলার আসামিদের হুমকিতে বাড়ি ছাড়া বাদী পরিবার

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর আরিফুল ইসলাম খান হত্যা মামলার প্রায় সাড়ে চার মাস পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিনে এসে এবং অন্য আসামিদের পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায়, আসামিরা এবং তাদের লোকজন মামলার বাদী, নিহতের মা ও বোনকে হুমকি দেয়া অব্যাহত রাখায় তাদের পরিবারকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

মামলার বাদী নিহতের ভাই শরীফুল স্কুলে ও বোন রাহিমা খাতুন মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। রোববার দুপুরে গফরগাঁও প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে আরিফুল ইসলাম খানের পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবী করা হয়েছে।

নিহত আরিফুলের মা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের বিলকিস বেগম (৪৫) সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পূর্ব শক্রতার জের ধরে ও সম্পত্তির লোভে, গত ৩০মে রাত ১০টার দিকে সাধুয়া গ্রামে রেনু বেগমের বাড়িতে আরিফুলকে ডেকে নিয়ে এ হত্যা মামলার আসামী হারুন খাঁ (৫৫), মহিন খাঁ (২০), রেনু খাতুন (৪৫), মুর্শিদ ফরাজী (৪৫), জোবায়েদ ফরাজি(২০), রফিক মোল্লা (৫০), বিদ্যুৎ (২৫), কৌশিক (২০)সহ আরো ৪/৫ জন আরিফুলকে এলাপাতাড়ি পিটিয়ে, শ্বাসরোধ করে খুন করে রেনু খাতুনের ঘরের আড়ার মধ্যে ঝুলিয়ে রাখে ।

আসামিরা আরিফুল আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালায়। ৩১ মে পাগলা থানায় এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয় এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় । ময়নাতদন্ত রিপোর্টে কর্তব্যরত চিকিৎসক এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে রিপোর্ট দিলে গত ২ সেপ্টেম্বর শরীফুল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পাগলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী নিহতের ভাই শরীফুল ইসলাম খান জানান, হত্যা মামলা দায়েরের পর থেকে থেকেই মামলার আসামী ও তাদের লোকজন মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য তাদের পরিবারের উপর চড়াও হয়। মামলা তুলে নিতে আসামিরা ভয়-ভীতি দেখানোই তাদেরকে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

মামলার প্রধান আসামি হারুন খাঁ জামিনে এসে মামলা প্রত্যাহার না করে তারা বাড়িতে গেলে কিংবা স্কুল, মাদ্রসায় গেলে তাকে ও তার মা, বোন রাহিমাকে আরিফুলের মতো খুন করা হবে বলে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ সিআইডির এস আই রূপক সরকার কথা বললে, বাদী পক্ষকে পাগলা থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন।

সংবাদ সম্মেনে নিহত আরিফুলের ভাই শরীফুল ইসলাম, মা বিলকিস বেগম ও বোন রাহিমা খাতুন বক্তব্য রাখেন।


আরো সংবাদ