১৮ নভেম্বর ২০১৯

মাদরাসা ছাত্রকে চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন

মাদরাসা ছাত্রকে চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন - নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শাখাওয়াত হোসেন সাদ (৮) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন করেছে একই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকেলে উপজেলার পাগলা থানাধীন বারইহাটি পশ্চিমপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসায়।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের লোকজন শিশু শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় পাগলা থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারইহাটি গ্রামের আসাদুজ্জামান তার শিশুপুত্র শাখাওয়াত হোসেন সাদকে (৮) গত জুলাই মাসে হাফেজী পড়ানোর উদ্দেশ্যে একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসায় ভর্তি করেন। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর থেকেই মাদরাসার সহপাঠি অন্য শিক্ষার্থীরা শিশুটির পিছনে লাগে ও নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের সময় যাতে কান্নাকাটি করতে না পারে সে জন্য শিশুটির চোখ-মুখ বেঁধে রাখা হতো। লাঠি-রড দিয়ে পেটানো ছাড়াও মাঝে মাঝে সৌর বিদ্যুতের দুই তার একত্রিত করে দুই হাতে বিদ্যুতের শক দেয়া হতো। নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দিতো নির্যাতনকারীরা।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ রাকিবুল হাসান পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর, মোস্তাকিন, ইমন, তুহিন, রিফাত, তানহাজ, মাসুম শিশুটিকে ‘নফল নামাজের কথা বলে’ মসজিদের ভেতর ধরে আনেন। পরে সবাই মিলে শিশুটির চোখ-মুখ বেঁধে লোহার রড দিয়ে বেদম পেটায় এবং এ কথা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় ভয়ে শিশুটি কাউকে কিছু জানায়নি। মঙ্গলবার সকালে আসাদুজ্জামান ছেলেকে দেখতে গিয়ে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে শিউরে উঠেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আসাদুজ্জামান বলেন, আমার শিশুপুত্রটিকে হাফেজি পড়ানোর জন্য ওই মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ রাকিবুল হাসানের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার শিশুপুত্রকে অমানুষের মতো নির্যাতন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আমি আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য অভিযোগ করবো।

বারইহাটি পশ্চিম পাড়া হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ রাকিবুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশুটিকে মারধর করা হতো এটা আমি জানতাম না। পরে জেনেছি।

স্থানীয় দত্তেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন, খবর পেয়ে আমি শিশুটিকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। কি জন্য মেরেছে জানি না। তবে নির্দয়ভাবে মেরেছে।

পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিনুজ্জামান খান বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ