১২ ডিসেম্বর ২০১৯

বাকৃবিতে বিদেশী শিক্ষার্থীর মৃত্যু : প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে আন্দোলন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক বিদেশী শিক্ষার্থীরা মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই শিক্ষার্থী মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের অব্যবস্থাপনা ও হল প্রশাসনের গাফিলতি ছিল বলে দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদস্বরূপ রোববার সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবন সংলগ্ন সড়ক অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ওই ছাত্রের মৃত্যুর জন্য হেলথ কেয়ার সেন্টারের অব্যবস্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে বিক্ষোভ জানান তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবারের সবধরণের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে। ভিসির বাসভবনের সামনের রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

মৃত্যুবরণ করা শিক্ষার্থীর নাম হারানি জানাকি রামান। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

হারানি শুক্রবার রাত ২টায় শ্বাসকষ্ট আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় হারানি অসুস্থতা বোধ করেন। তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ কেয়ার সেন্টারে নেয়া হয়। তবে সে সময় হেলথ কেয়ার সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় অটো রিকশায় করে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টায় মৃত্যুবরণ করেন হারানি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সঠিক সময়ে না পাওয়া ও শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরও ভেটেরিনারি অনুষদের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত না করায় শিক্ষার্থীরা রোববার বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা অবস্থান কর্মসূচি থেকে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিম আহমেদ, বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিয়াউল হক এবং হেলথ কেয়ার সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়েজ আহমদের পদত্যাগ দাবি করেন। এ দাবিতে শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম বেঁধে দেয়। এদিকে আলোচনায় দাবি আদায় না হওয়ায় আবারো আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা। ভিসি বাসভবনের সামনের রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিম আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘ডিন স্যার শহরে পালিয়ে আছেন। আগেও দেখা গেছে, আমাদের ডিন স্যার আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ডের টাকা কেটে নেন এবং বহিষ্কারের হুমকি দেন। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।’

অন্যদিকে বেগম রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক স্যারকে বিভিন্ন সমস্যায় ফোন দিয়েও পাওয়া যায় না। হারানিকে মেডিকেলে নেয়ার বিষয়ে তারও গাফিলতি ছিল। অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি।’

এ সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো: আজহারুল ইসলাম, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. জাকির হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনেকে। তারা শিক্ষার্থীদের সাথে বারবার আলোচনায় বসতে চেয়েও ব্যর্থ হন।

তবে সোমবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বসতে চাওয়ার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা রোববার সন্ধ্যা ৭টায় কর্মসূচি শেষ করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে সোমবার ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে আজ বিকাল সোয়া তিনটার দিকে ভিসি প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান আন্দোলনরতদের সামনে উপস্থিত হয়ে এক দিনের সময় চান। সে ভিত্তিতে আন্দোলন আজকের মতো স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।


আরো সংবাদ