১৯ এপ্রিল ২০১৯

তিব্বতে বিশাল ধসে আটকে গেল ব্রহ্মপুত্র, ভারতকে সতর্ক করল চীন

ধস নেমে এরকমই হ্রদ তৈরি হয়েছে - ছবি : সংগ্রহ

তিব্বতে নদী পথ জুড়ে বিশাল পাহাড়ি ধস। আর তার জেরেই আচমকা আকস্মিক বন্যায় ভেসে যেতে পারে অরুণাচল প্রদেশের একটি বিস্তীর্ণ এলাকা। চীনের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের কাছ থেকে এই ধসের খবর পাওয়ার পরই সতর্কতা জারি করা হয়েছে অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সিয়াং জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং এবং পূর্ব সিয়াং জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত সিয়াং নদীর পানির স্তর গত কয়েক দিনে দু’মিটারেরও বেশি কমে গেছে। আপার সিয়াং-এর জেলাশাসক ডুলি কামডুক বলেন, ‘‘টুটিং-এর কাছে পানির স্তর ২ মিটারের বেশি নেমে যায়। তখনই আমরা সন্দেহ করেছিলাম, নদীর উজান পথে কোথাও বাধার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার চীনের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের কাছ থেকে রিপোর্ট এসেছে, ধসে নদীর গতিপথ আটকে গেছে।’’

চীনের পাঠানো ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর গতিপথ বিশাল পাহাড়ি ধসে আটকে গেছে। তার ফলে আচমকা তৈরি হয়ে গেছে বিশাল এক হ্রদ। প্রায় ১৩০ ফুট উঁচু হয়ে পানি জমে রয়েছে সেখানে। প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে পানির স্তর। যেকোনো সময় সেই বাঁধ ভেঙে ভাসিয়ে দিতে পারে অরুণাচল প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা!

তিব্বতের এই ইয়ারলুং সাংপোই অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নামে প্রবাহিত। সিয়াং আরো নিচে নেমে এসে আসামে নাম নিয়েছে ব্রহ্মপুত্র। অরুণাচল প্রদেশের বিধায়ক নিনং এরিং বলেন, ‘‘নদীর দু’পারে গ্রামগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা যেন নদীর কাছে না আসেন। টুটিং, ইঙকিয়ং এবং পাসিঘাটের মতো শহরগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে। বন্যার আশঙ্কার পাশাপাশি পরিস্থিতি সঙ্গীন হয়েছে নদী দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায়।’’

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। ভারত-চীন সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে লিংজি বলে একটি জায়গায় ইয়ারলুং সাংপোর গতিপথে হঠাৎ করেই ধস নামে। পাহাড়ি উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর মাঝখানে ধসে পড়ে পাহাড়ের একাংশ। সেই ধসে নদীর গতিপথে কার্যত একটা বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে নদীর পানি পুরোপুরি আটকে নিচের দিকে নামা বন্ধ হয়ে যায়। গতিপথের পিছন দিকটা সুবিশাল হ্রদের আকার নিয়ে নেয়। আর হ্রদের নিচের দিকে অর্থাৎ যেখানে ধস নেমেছে তার পরবর্তী অংশে শুকিয়ে গেছে নদী।

চীনের এমার্জেন্সি সার্ভিসেস জানিয়েছে, উপর থেকে পানি নামছে। অথচ সেই পনি নদীপথ ধরে নিচে নামতে পারছে না। ফলে ক্রমেই বাড়ছে ওই হ্রদের পানির স্তর। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই লেকের পানির স্তর দাঁড়িয়েছে ৪০ মিটার বা ১৩০ ফুটেরও বেশি।

কিন্তু ধসের ওই আলগা দেয়াল যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। সেই সময় বিশাল পানিরাশি ধেয়ে আসবে নিচের দিকে। সেই বিপদের আশঙ্কাতেই ইয়ারলুং ছাংপো নদীর দুই তীর এবং আশপাশের প্রায় ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে তিব্বতের স্থানীয় প্রশাসন। নদী সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াতের উপর জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

আকস্মিক বন্যার সঙ্গে ভূমিকম্পের আশঙ্কাও বাড়ছে। কারণ, এ বছরের গোড়ার দিকে একই ভাবে নদীপথ ধসে আটকে যাওয়ার পর তিব্বতে একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 


আরো সংবাদ

rize escort bayan didim escort bayan kemer escort bayan alanya escort bayan manavgat escort bayan fethiye escort bayan izmit escort bayan bodrum escort bayan ordu escort bayan cankiri escort bayan osmaniye escort bayan