২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাল বিরল বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ

কাল বিরল বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ - ছবি : সংগৃহীত

আগামীকাল বৃহস্পতিবার হতে যাচ্ছে বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। একে তো বছরের শেষ আবার এটা হচ্ছে বিরল ধরনের বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ। তবে সূর্যগ্রহণটির পূর্ণরূপটি বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। আংশিক গ্রহণ দেখতে পারবেন বাংলাদেশের মানুষ। শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ ভারত, সৌদি আরব, কাতার, আমিরাত, ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন থেকে এটা খুব ভালোভাবে দেখতে পাওয়া যাবে। সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ থেকে প্রথম দেখা যাবে সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে দুপুর ১২টা ৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়। এতে চোখের ক্ষতি হতে পারে। এটা দেখা যাবে বিশেষ ধরনের সূর্য রশ্মিকে বাধা (সোলার ফিল্টার) দিতে পারে এমন চশমা দিয়ে। সাধারণ কালো সানগ্লাস দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা ঠিক হবে না। এতেও চোখের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়েল্ডিং করার কাজে চোখের সামনে যে গ্লাস ব্যবহার করা হয় এটি ব্যবহার করে সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য নাসা অনুমোদন করে।

কেন সূর্যগ্রহণ হয়? জ্যেতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চন্দ্র যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে একই লাইনে চলে আসে তখন চন্দ্র দ্বারা সূর্য আড়াল হয়ে যায়, তখনই সূর্যগ্রহণ হয়। এটি সব সময় অমাবস্যার দিনেই হয়। প্রশ্ন হতে পারে প্রতি অমাবস্যায় হয় না কেন? কারণ পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে চাঁদ ৫.১৫ ডিগ্রি কোণে করে ঘোরে। এ জন্য প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না। সূর্যগ্রহণ চার প্রকার হয়ে থাকেÑ আংশিক গ্রহণ যা সূর্যের কিছু অংশ ঢেকে ফেলে, পূর্ণ গ্রহণ হলে কিছু সময়ের জন্য সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, বলয় গ্রহণ হলে কিছু সময়ের জন্য চন্দ্র সূর্যের মাঝে চলে যায়। এ সময় সূর্যকে চারিদিকে রিং বা আংটির মতো দেখায় এবং আরেক ধরনের গ্রহণের নাম হাইব্রিড গ্রহণ। এটা হলে পূর্ণ গ্রহণ ও বলয় গ্রহণের সমন্বয়; এটা খুব কম হয়ে থাকে। আগামীকালের গ্রহণটি হবে সূর্যের বলয় গ্রহণ।

১৯০১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মোট সূর্যগ্রহণ হয়েছে ২২৮টি। এর মধ্যে আংশিক গ্রহণ ৭৮টি, পূর্ণ গ্রহণ ৭১টি, বলয় গ্রহণ ৭৩টি ও হাইব্রিড গ্রহণ ৬টি। ২০০১ সাল থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত মোট সূর্যগ্রহণ ঘটবে ২২৪টি। এর মধ্যে আংশিক গ্রহণ হবে ৭৭টি, পূর্ণ গ্রহণ ৬৮টি, বলয় গ্রহণ হবে ৭২টি ও হাইব্রিড গ্রহণ ৭টি। পরবর্তী সূর্যগ্রহণটি হবে আগামী বছর ২১ জুন। এটি হবে বলয় গ্রহণ এবং এটি দেখা যাবে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে এবং আফ্রিকা ও এশিয়া অধিকাংশ অঞ্চল থেকে।

চন্দ্র সূর্যগ্রহণ হলে ইসলামে মুমিনদের আল্লাহর তাসবিহ পাঠ, দোয়া করা ও নফল নামাজ পড়ার জন্য বলা হয়েছে।
খুলনা শহরে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের উপপ্রকৌশলী (সিভিল) ও সৌখিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রাজ্জাক বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রহণটির ৪৩.০৯ শতাংশ ঢেকে যাবে ১০টা ২৫ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে। ছোট টেলিস্কোপ (থিওডোলাইট) ও বিশেষ ধরনের সোলার ফিল্টারের মাধ্যমে এই গ্রহণ দেখানো হবে। তিনি খুলনার নিউ মার্কেট ও বায়তুন-নূর জামে মসজিদের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে এই পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ০১৭১১২৮০২৭০ নাম্বারে তার সাথে যোগাযোগ করা যাবে।


আরো সংবাদ