Naya Diganta

ক্ষমার প্রান্তরে শীতল ছায়া

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক, লা-শারিকা-লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুল্ক, লা শারিকা লাক।’ লাখো মানুষ এই তালবিয়া মুখে নিয়ে আর দুই মাস পর মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজিরা দেবেন হজের ফরজ আদায়ের জন্য। তারা বলবেন, আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার। আপনার কোনো অংশীদার নেই।

পবিত্র হজে সারা বিশ্ব থেকে মুসলিমরা ছুটে আসার আগে এবার ১৫ থেকে ২০ লাখ মুসল্লি হাজির হন পবিত্র রমজানে আল্লাহর ঘরে ইবাদত-বন্দেগি করতে। বিশেষ করে রমজানের শেষ ১০ দিনের মাগফিরাতের সময় মহান রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আর্তি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। তারা ওমরাহ পালন করেছেন, তাওয়াফ-সায়ী করেছেন। জামায়াতে আদায় করেছেন তারাবি। যে নগরীতে মহান রাব্বুল আলামিন তার পবিত্র গ্রন্থ নাজিল শুরু করেছেন, সেখানে ইমামের কণ্ঠ থেকে যখন এই পবিত্র কুরআন উচ্চারিত হয় তখন অন্য রকম এক আবহ ছড়িয়ে পড়ে। এখানে মধ্যরাতে জামাতে আয়োজন হয় কিয়ামুল লাইল নামাজের। গভীর রজনীতে আরো ধীরে ইমাম সাহেব তিলাওয়াত করেন মহান আল্লাহর কিতাব। গভীর রাতের এই তিলাওয়াত মুসল্লিদের হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে যায়। কিয়ামুল লাইল শেষে বিতরের শেষ রাকাতে দুই হাত তুলে কাবার ইমাম মহান রবের দরবারে দীর্ঘ মুনাজাত করেন। এ সময় লাখো মুসল্লির আমিন ধ্বনিতে মহান প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার অন্য রকম এক অনুভূতি তৈরি হয়। আশাবাদ জাগে মহান স্রষ্টা তাঁর পবিত্র ঘরে বান্দাদের ক্ষমা প্রার্থনা ও রহমত কামনার এই আবেদন নিশ্চয়ই ফিরিয়ে দেবেন না।

এবারের রমজানের শেষ ১০ দিনে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয় কাবা শরিফ-সংলগ্ন কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে আয়োজিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা- ওআইসির শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোর শীর্র্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। তারা ওমরাহ তাওয়াফ ও সায়ী করেন। পরে অনেকেই যান মহানবী সা:-এর রওজা জিয়ারত করতে মদিনায়। এর আগে এখানে অনুষ্ঠিত হয় আরব দেশগুলোর সংগঠন আরব লিগ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা- জিসিসির শীর্ষ সম্মেলন। তার আগে মক্কাভিত্তিক সংগঠন মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ আয়োজন করে সারা বিশ্বের মুসলিম স্কলারদের নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের। ৩৭টি দেশের ১২ শতাধিক ইসলামী পণ্ডিত এতে অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে সুন্নি-শিয়া নির্বিশেষে ইসলামের ২৭টি ধারার বিশেষজ্ঞ আলেমরা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে গ্রহণ করা হয় মক্কা দলিল। একটি মুসলিম বিশ্ব স্কলার ফোরামের প্রস্তাবও সেখানে নেয়া হয়, যে ফোরামটি হবে মুসলিম উম্মাহর সঙ্কট সন্ধিক্ষণে গাইডলাইন দেয়ার একক ফোরাম।

এমনিতে হারাম শরিফের প্রাঙ্গণ হয় বিচিত্র দেশ থেকে আসা বিভিন্ন মাজহাব ও ধারার সাদা-কালো-বাদামি মিশ্র রঙের নারী-পুরুষের নিবিড় মনে প্রভুর কাছে হাজিরা দেয়ার মিলন কেন্দ্র। সেখানে এবার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক মুসলিম ফোরামের সম্মেলন নতুন এক আবহ তৈরি করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব আয়োজনে নিখুঁত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কয়েক বছর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ হারাম শরিফকে সম্প্রসারণ করে সেখানে হাজিদের ধারণ ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ করেছে।

হজের সময় আনুষ্ঠানিক অপরিহার্য ইবাদতের মধ্যে তাওয়াফ-সায়ীর পাশাপাশি আরাফা প্রান্তরে উপস্থিতি, মিনা-মুজদালিফায় গমন ও অবস্থান অন্তর্ভুক্ত থাকে। রোজার সময় কাবাঘরে আসা আল্লাহর মেহমানদের উপস্থিতি ও ইবাদত-বন্দেগি থাকে পবিত্র হারাম শরিফ-কেন্দ্রিক। এর পরও অনেকেই ইসলামের পবিত্র স্মৃতি স্থানগুলো পরিদর্শন করতে যান। হজের সময় আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যে মনোযোগ থাকায়, এই স্থানগুলোর প্রতি সেভাবে নজর থাকে না। কিন্তু হজের বাইরের সময় যারা আরাফা ময়দান, নামিরা মসজিদ অথবা জেবেল রহমত দেখতে যান; তারা ইতিহাসের গভীরে হারিয়ে যেতে পারেন।

পবিত্র মক্কা থেকে ১৩-১৪ কিলোমিটার পূর্বে জাবালে রহমতের পাদদেশে ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত আরাফাতের ময়দান অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ দুই কিলোমিটার। ঐতিহাসিক এ ময়দানটি তিন দিকে পাহাড়বেষ্টিত। এ ময়দানের দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে রয়েছে মক্কা-হাদাহ-তায়েফ রিং রোড। এ রোডের দক্ষিণ পাশেই আবেদি উপত্যকায় মক্কার ঐতিহাসিক ‘উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়’ অবস্থিত। আর উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাতের ময়দানের সীমানাও প্রায় ১ কিলোমিটার। সেখান থেকে দক্ষিণে গিয়ে মসজিদে নামিরায় আরাফা ময়দানের সীমানা শেষ হয়েছে।

এ ঐতিহাসিক ময়দানেই বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন ও ঐক্যের স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত। হাজীগণ এ ময়দানে উপস্থিত হয়ে এ স্মৃতিস্তম্ভে চুম্বন ও মুনাজাত করেন। ইহরামের কাপড়ের শুভ্র বসনে হাজীগণ আল্লাহর দরবারে জীবনের গুনাহ মাফের আর্তি জানাতে থাকেন।

আরাফাতের ইতিহাস সবচেয়ে প্রাচীন। প্রথম মানব হজরত আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসার পর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে তারা একে অপরকে খুঁজতে থাকেন। অবশেষে আল্লাহর রহমতে তারা আরাফাতের এ স্মৃতিবিজড়িত ময়দানেই মিলিত হন। আদম আ: আরাফাত ময়দানে জাবালে রহমতের ওপর বিশ্রাম নেয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থানকালে দেখতে পান, হাওয়া আ: জেদ্দার দিক থেকে আরাফাতের ময়দানের দিকে আসছেন, তখন আদম আ: উঠে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং অঝোরে কাঁদতে থাকেন। এ সময় আদম ও হাওয়া আ: আসমানের দিকে তাকান। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাদের দৃষ্টি থেকে পর্দা উঠিয়ে দিলে তাদের দৃষ্টি আল্লাহর আরশের ওপর গিয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আদমকে তার প্রতিপালক কিছু বাক্য শিক্ষা দেন। এতে রব তার প্রতি মনোযোগী হন, নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী ও দয়ালু।’ (সূরা বাকারা : ৩৭)।

এভাবে আদম ও হাওয়া আ:-এর মধ্যে পরস্পর আরাফা ময়দানে সাক্ষাৎ লাভ হয়। আল্লাহর কাছে হজরত আদম আ: ও হাওয়া আ: তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই ক্ষমা প্রার্থনা আল্লাহর কাছে অত্যধিক পছন্দনীয় ছিল বলে আল্লাহ তায়ালা বিশ্ব মুসলিমের জন্য আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়াকে হজের মূল রুকন হিসেবে কবুল করেন। এটি পরিণত হয় মহান রবের ক্ষমা মঞ্জুরের এক অনন্য প্রান্তর হিসেবে।

বছরের বেশির ভাগ সময় এই স্থানে লোকসমাগম হয় না। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ হজের দিন হজযাত্রীরা মিনা থেকে এখানে উপস্থিত হন। আরাফাতে অবস্থান হজের অন্যতম ফরজ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সময় এখানে খুতবা পড়া হয় এবং জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে পড়া হয়। সন্ধ্যায় হজযাত্রীরা আরাফাত ছেড়ে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন।

জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়) হলো আরাফাতের অন্যতম প্রধান নিদর্শন। এটি মক্কার পূর্ব দিকে আরাফাতে অবস্থিত একটি পাহাড়। রাসূল মুহাম্মদ সা: এখানে দাঁড়িয়ে হজযাত্রীদের সামনে বলে হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। পাহাড়টি গ্রানাইটে গঠিত এবং উচ্চতা প্রায় ৭০ মিটার। এই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে বিদায়ী ভাষণে মহানবী সা: এক লাখ ৫০ হাজার সাহাবির সামনে বলেছিলেন- হে মানব জাতি! মনে রেখো তোমাদের আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তোমাদের আদিপিতা এক, কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি কোনো সাদার ওপর নেই কোনো কালোর শ্রেষ্ঠত্ব। কেবল আল্লাহভীতিই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি।

তিনি আরো বলেন, তোমাদের জীবন ও সম্পদ তোমাদের পরস্পরের কাছে তেমনি পবিত্র, যেমনি আজকের এই স্থান ও দিনটি পবিত্র, এই মাস, এই শহর পবিত্র। জাহেলিয়াতের সব কিছু আজ আমার পদতলে পিষ্ট, জাহেলি যুগের সব রক্তের দাবি রহিত করা হলো। আজ থেকে জাহেলি যুগের সর্বপ্রকার সুদ রহিত করা হলো।

মহানবী বলেন, তোমাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। তোমরা তাদের আল্লাহর কালামের মাধ্যমে হালাল করে নিয়েছ, তোমরা তাদের অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করবে।

মানব জাতিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, মনে রেখো আমার পরে আর কোনো নবী আসবেন না। আর তোমাদের পরেও কোনো উম্মত নেই। কাজেই তোমরা খুশি মনে নামাজ আদায় করবে, রমজানের রোজা রাখবে, সম্পদের জাকাত আদায় করবে এবং বাইতুল্লাহর হজ পালন করবে, শাসকের আনুগত্য করবে; তবেই তোমরা আল্লাহর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

আল্লাহর শেষ নবী মুহাম্মদ সা: বলেন, হে মানব জাতি! পিতার অপরাধে পুত্র দায়ী হবে না এবং পুত্রের অপরাধে কোনো পিতা দায়ী হবে না। শিগগিরই তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে জিজ্ঞাসিত হবে।

মহানবী সা: বলেন, মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। আমি তোমাদের কাছে দু’টি বস্তু রেখে গেলাম, যদি তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো, তবে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তার মধ্যে একটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, দ্বিতীয়টি আমার সুন্নত।

নবী করিম সা: বিদায়ী ভাষণে বলেন, তোমরা তোমাদের দাস-দাসী সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। তোমরা যা খাবে তাদের তা খেতে দেবে, তোমরা যা পড়বে তাদের তা পড়াবে। তোমরা তাদের ক্ষমা করে দেবে, তোমরা কখনো তাদের শাস্তি দেবে না। আর তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। কারণ, অতীতে বহু জাতি দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়ে গেছে।

প্রথম মানব ও নবী আদম আ: আরাফাতের এই প্রান্তরে মহান রবের ক্ষমা ও করুণা লাভ করেন। কিতাবধারীদের পিতা হজরত ইব্রাহিম আ: হজ পালন শুরু করেন। আর এখানে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা: আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল করা মিশনের সমাপ্তি ঘোষণা করে তার প্রচারিত ধর্ম ও আদর্শকে কিয়ামত পর্যন্ত অনুসরণীয় বলে জানান।

বাইতুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সায়ীর পর নির্ধারিত তারিখেই আরাফাতের ময়দানে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করতে সবাই একত্র হন। সেখানে বিশ্ব মুসলিমের হেদায়েতের মূলমন্ত্র হজের খুতবা পড়া হয়। সে খুতবার দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বের প্রতিটি অঙ্গনে। সমগ্র মুসলিম উম্মাহ পাপমুক্ত জীবন লাভে এ ঐতিহাসিক প্রান্তরে কান্নাকাটি করেন। চোখের অশ্রুতে বুক ভাসান হজে আগত সব হাজী। তাদের হৃদয় ও মন দিয়ে আল্লাহ তায়ালাকে উপলব্ধি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কারণ, এ স্থানেই ক্ষমা লাভ করেছিলেন আদি পিতা-মাতা আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম।

আরাফাত ময়দানে সব হাজী উপস্থিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করে দেন। এ দিন হাজীদের ওপর বিশেষভাবে আল্লাহর রহমত বর্ষণ হয় এবং জাহান্নামিদের অধিক সংখ্যায় মুক্তি দেয়া হয়। এ ছাড়া বান্দার গুনাহ মার্জনার কারণে এই দিন শয়তান চরমভাবে অপমানিত হয়। তাই আরাফাত আল্লাহপ্রদত্ত একটি শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। হজ পালনকারীদের জন্য এটি মোবারক সময় ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি স্থান। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, যখন আরাফাতের দিন হয়, তখন আল্লাহ তায়ালা এই নিকটতম আসমানে আসেন। হাজীদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন এবং বলেন, দেখো আমার বান্দাদের দিকে, তারা আমার কাছে এসেছে এলোমেলো কেশে ধুলাবালি গায়ে, ফরিয়াদ করতে করতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।

হাদিসে আরো আছে, আরাফাতের দিন বিকেলে রাসূলুল্লাহ সা: স্বীয় উম্মতদের (হাজীদের) জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। উত্তর দেয়া হলো- অন্যের প্রতি জুলম ছাড়া সব গুনাহ আমি ক্ষমা করে দিলাম। কিন্তু আমি মজলুমের পক্ষে জুলুমকারীকে পাকড়াও করব। (ইবনে মাজাহ : ৩১২৭)।

হজের পবিত্র স্মৃতিধন্য এই আরাফাতের ময়দানের সাথে বাংলাদেশেরও একটি সম্পর্ক রয়েছে। ঊষর এই মরু প্রান্তরটি এখন বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এক উদ্যোগে সবুজের শীতল ছায়াময় হয়ে আছে। শহীদ জিয়া এখানে ৫০ হাজার নিমের চারা লাগানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে এই নিমগাছ দুই লাখে উন্নীত হয়। এ কারণে সৌদি আরবে এই নিমগাছের নাম দেয়া হয়েছে ‘জিয়া ট্রি’। নিম একটি বহুমুখী অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি ট্রি, যা বেশির ভাগ জলবায়ু ও মাটির অবস্থার সাথে সুসঙ্গত হয় এবং এটি তার ঔষধি গুণ এবং কীটনাশক হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। নিমগাছ এখন আরাফাত ময়দানে লাখ লাখ হাজীর গ্রীষ্মের সূর্যের কিরণ থেকে ছায়া ও শীতল বাতাস প্রদানের জন্য কাজে লাগছে। সৌদি আরবের সামগ্রিক আবহাওয়ায়ও পরিবর্তনের সূচনা লক্ষ করা যাচ্ছে। মক্কাসহ সৌদি নগরীগুলোতে বৃষ্টি এখন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। সেখানকার পাথুরে পাহাড়গুলোও অনেক সময় সবুজ হয়ে ওঠে বৃষ্টিতে।

বাংলাদেশের একজন প্রেসিডেন্টের কাজ পবিত্র আরাফাতের দীর্ঘ পবিত্র ইতিহাসের সাথে যুক্ত হয়েছে, মহান প্রভুর ক্ষমার এই প্রান্তরে রহমতের শীতল ছায়া বিস্তারের সাথে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে, এটি কম সৌভাগ্যের বিষয় নয়। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন এ দেশটির প্রতি মহান প্রভুর বিশেষ কোনো দয়া বা রহমত যে রয়েছে, এর মধ্যে কিঞ্চিত হলেও তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

[email protected]