Naya Diganta

চোখ বুঝে, ঘুমিয়ে থেকে আওয়ামী লীগ আগামীতে ভোট পাবে : আমু

চোখ বুঝে, ঘুমিয়ে থেকে আওয়ামী লীগ আগামীতে ভোট পাবে : আমু

বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাকে একক নেত্রীর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে চোখ বুঝে, ঘুমিয়ে থেকে আ’লীগ আগামীতে ভোট পাবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। তিনি বলেছেন, ভোট চাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। যদি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা থাকতো।

মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর টাউনহল অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের সাফল্যের কারনে ৩৭টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে। সারাবিশ্ব আজ তাঁকে অন্য চোখে দেখে। তাহলে কেন, আমাদের দেশের একক নেত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু যেমনি ১৯৭০-৭৩ সালে এই দেশে একক নেতা স¤্রাট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, আজকে কেন আমরা শেখ হাসিনাকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো না। আজকে তিনি যে কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন, তার বিনিময়ে আমাদের তাকে ওই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর এটা যদি সম্ভব হয়, তাহলে চোখ বুঝে, ঘুমিয়ে থেকে আপনারা আগামীতে ভোট পাবেন। আর যদি এটা না করেন, তাহলে প্রতিবারের মতো ভোট আসলে আতঙ্কিত হবেন। প্রশ্ন করবেন নিজেকে জিততে পারবে কিনা। ভোট চাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না যদি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা থাকতো।

আ’লীগ সরকার দেশের মানুষের জন্য যে কাজগুলো করেছে, আমরা যদি সেগুলো সঠিকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারতাম, তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’

আমির হোসেন আমু বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু ততদিন জীবিত থাকবে, যতদিন আ’লীগ জীবিত থাকবে সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে। শেখ হাসিনার উন্নয়নের কর্মকান্ড মানুষের দ্বোরগড়ায় নিয়ে যেতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা প্রয়োজন। জনগনকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে, শেখ হাসিনার সরকারের অবদান কি, দেশ ও জাতিকে কি দিয়েছে।’

বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, হাততালি দিয়ে প্রতিনিধি সভা থেকে চলে গেলে চলবে না। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আজ প্রতিজ্ঞা করতে হবে। বিভিন্ন দিবসের মধ্যে দলের সাংগঠনিক কাঠামো সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জনগনকে নতুনভাবে সম্পৃক্ত এবং সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে।

আ’লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, সদস্য মীর্জা আজম এমপি, মারুফা আক্তার পপি ও রেমন্ড আরেং, নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন এমপি, কাজিম উদ্দিন ধনু এমপি, ময়মনসিংহ জেলা আ’লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আ’লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম, সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান প্রমুখ।

ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সাড়ে পাঁচশ প্রতিনিধি অংশগ্রহন করেন।