Naya Diganta

বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট

বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট

দেশের সব আদালতের বিচারকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একই সাথে বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেছেন আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদিদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
রিটের শুনানিতে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, কোর্টগুলোর নিরাপত্তাহীনতার কারণে একজন আসামিকে আদালতের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। তাই সব আদালতের নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দেশনা চাই।

এ সময় আদালত বলেন, কুমিল্লার আদালতে বিচারকের সামনে একজনকে হত্যার ঘটনায় আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর আগে নেত্রকোনার আদালতে দু’জন বিচারককে হত্যা করা হয়েছিল। আবার গাজীপুরের আদালতেও হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। এ কারণে আমরা বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রুল জারি করছি।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই কুমিল্লার আদালতে হত্যা মামলার এক আসামি অপর আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। কুমিল্লার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। 

কুমিল্লার আদালতে বিচারকের সামনে হত্যা মামলার এক আসামি অপর আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় আদালতে বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ জুলাই হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদি করা হয়।

দেশের প্রতিটি বিচারাঙ্গনে আইনজীবী, বিচারক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, গত ১৭ জুলাই তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্টের বেঞ্চ। পাশাপাশি কুমিল্লার ঘটনায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাও জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেয়া হয়।

এ দিকে ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে হত্যা মামলার এক আসামি জামিন নেয়ার পর তার ওপর বাদিপক্ষের লোকজন হামলা করে। এ সময় আসামির উকিলও আক্রান্ত হন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ঘটনায় জড়িত তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ করে। ১৭ জুলাই রিটের শুনানিকালে ওই দুই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আদালত বলেন, কুমিল্লার ঘটনার আগের দিন ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট বারেও হামলার ঘটনা (বিবাদি ও তার আইনজীবীর ওপর হামলা) ঘটেছে। এ অবস্থায় কোর্টে বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের সিকিউরিটির জন্য কী পদক্ষেপ নিলেন? তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, কুমিল্লা ও সুপ্রিম কোর্ট বারের দু’টি ঘটনাই ব্যক্তিগত। এ সময় আদালত বলেন, ব্যক্তিগত হোক, যাই হোক, কোর্টের ভেতরে ছুরি নিয়ে কিভাবে যায়? পুলিশ কী করে? অবশ্যই এটা পুলিশের দায়িত্বহীনতা।

তখন রিটকারী আইনজীবী বলেন, নিরাপত্তা তো সবার জন্য। উনিও (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। তাই আইনজীবী, বিচারকসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর আদালত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সারা দেশের আদালতে আইনজীবী, বিচারক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা এবং কুমিল্লার ঘটনায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই কুমিল্লা আদালতে হত্যা মামলার এক আসামি অপর আসামিকে ছুরিকাঘাতে খুন করে। ওই ঘটনায় নিহতের নাম ফারুক হোসেন (২৭) আর অভিযুক্ত আবুল হাসান (২৫। হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

পরে এ নিয়ে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, কুমিল্লায় আদালত কক্ষে বিচারকের সামনে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, বিচারকের স্ত্রী হিসেবে এ ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। এ কারণে আমি সব আদালত প্রাঙ্গণ ও বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেছি।