Naya Diganta
ডেঙ্গু নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে বাণিজ্য

অবিলম্বে বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

ডেঙ্গু নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে বাণিজ্য

ডেঙ্গু সারা দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই অবস্থা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে দিনের বেলায় ভিড় বেড়ে যাওয়ায় এখন ডেঙ্গু আক্রান্তদের নিয়ে হাসপাতালগুলোতে মধ্যরাতে ভিড় করছে অভিভাবকেরা। এ দিকে অভিযোগ উঠেছে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে দেশের কিছু বেসরকারি হাসপাতাল অন্যায় বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এমন চিকিৎসাখরচ আদায় করছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। পত্রিকা জানিয়েছেÑ এমন অভিযোগ উঠেছে যে, একজন ডেঙ্গু রোগীর পাঁচ দিনের চিকিৎসার বিল পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
খবরে প্রকাশ, দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ ব্যবসায়ী ফাঁদ পেতে বসেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগীর অভিভাবকদের একধরনের জিম্মি করে এসব হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ ব্যবসায়ী এ ধরনের অনৈতিক ব্যবসায় চালাচ্ছে। অনেককে প্রয়োজন না হলেও আইসিইউতে পাঠানো হচ্ছে। আদায় করা হচ্ছে এ খাতে মোটা অঙ্কের চিকিৎসা-বিল। এমন অভিযোগও আছে, বেড খালি থাকলেও বলা হচ্ছে আইসিউ ছাড়া বেড খালি নেই। সম্প্রতি এক রোগীর পাঁচ দিনের বিল নিয়ে বেশ তোলপাড় শুরু হয়েছে। এক ডেঙ্গু রোগীর পাঁচ দিনের বিল করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা, একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিলের কপি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আরেক রোগীর ২২ ঘণ্টার চিকিৎসার বিল ধরা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৪৭৪ টাকা। গত ২৬ জুলাই এ ডেঙ্গু রোগী মরা যান। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হলেও নীরব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ডেঙ্গুজ্বরের রোগীদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। এ জন্য বেসরকারি হাসপাতালের চার্জ ২০-২৫ হাজার টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। এ দিকে, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হলেও তা মানছে না অনেক হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার। খবরে প্রকাশ, কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতাল এই ফি তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলোÑ অনেকে পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট লিখে দিচ্ছে, এমন অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। তা ছাড়া অনেক হাসপাতালে কী কারণে রোগীকে আইসিউইতে নেয়া হলো, তা স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে না।
মোট কথা, ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে একধরনের বাণিজ্য যে চলছে, তা নিশ্চিত। কিন্তু এই অবৈধ বাণিজ্য যাতে না চলতে পারে, সে জন্য যে ধরনের তদারকি সরকারি কর্তৃপক্ষের নেয়া উচিত, তা নেয়া হচ্ছে না। ফলে এই অবৈধ বাণিজ্য চালানো সম্ভব হচ্ছে। আমরা মনে করি, বিষয়টি অবিলম্বে জোরদার নজরদারির আওতায় নিয়ে এর অবসান ঘটানো প্রয়োজন। এমনিতেই ডেঙ্গু রোগীর অভিভাবকদের ভোগান্তির শেষ নেই, সেখানে হাসপাতালগুলো যদি বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি করে, তা সত্যিই দুঃখজনক।