Naya Diganta

দুই গোয়েন্দার অভিযান অভিযান

উনিশ.
‘আঙ্কেল,’ চিৎকারটা আপনাআপনি বেরিয়ে গেল যেন রেজার মুখ থেকে, ‘ওই গাড়ি আপনার!’
হেসে মাথা নাড়লেন গেদু চাচা। ‘নাহ্, সে সৌভাগ্য কি আর হবে আমাদের। ওটার মালিক ছিলেন হিরণ কুমার। তার গ্যারেজে পেয়েছি। বাড়ি দেখাশোনার সাথে সাথে গাড়িটাও দেখাশোনা করছি। সুযোগ পেয়ে চালানোর লোভ আর সামলাতে পারিনি।’
‘কত গাড়িতেই তো চড়লাম,’ সুজা বলল। ‘কিন্তু এ রকম গাড়িতে চড়া তো দূরের কথা, ছবিতেই কেবল দেখেছি।’ চাচা-চাচীর দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচাল সে, ‘কেমন লাগে চড়তে?’
‘চড়েই দেখো,’ হেসে মাথা ঝাঁকালেন চাচী। নেচে উঠল ঘাড়ের কাছে ছেঁটে ফেলা কালো কোঁকড়া চুল। বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। এ বয়সেও যথেষ্ট সুন্দরী।
রেজা ও সুজা বসল পেছনের সিটে।
স্টার্ট দিলেন গেদু চাচা।
ফিরে তাকিয়ে চাচী বললেন, ‘মাস দুয়েকের মধ্যেই নিলাম হয়ে যাবে বাড়িটা। সেই সাথে বাড়ির যাবতীয় জিনিসপত্র আর এই গাড়িটাও নিলাম হবে।’
অবাক মনে হলো সুজাকে। ‘বিক্রি করে দেবে বাড়িটা? কেন?’
‘হিরণ কুমার মরে ভূত হয়ে গেছে কবে,’ নিচুস্বরে বলে কনুই দিয়ে সুজাকে আলতো গুঁতো মারল রেজা। ‘ও আর এসব জিনিস দিয়ে কী করবে।’
‘উত্তরাধিকার সূত্রে যারা এই সম্পত্তির মালিক হতে পারে, এমন কোনো বংশধর নেই হিরণ কুমারের,’ গাড়ি চালাতে চালাতে জানালেন গেদু চাচা। ‘ট্রাস্টির লোকেরা এখন সব বিক্রি করে দিতে চাইছে।’ (চলবে)