Naya Diganta
আনসারদের সহায়তায় বিনা টিকিটের যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশের অভিযোগ

ট্রেন ছেড়েছে ১২-১৫ ঘণ্টা বিলম্বে

আনসারদের সহায়তায় বিনা টিকিটের যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশের অভিযোগ

শনিবার বিকেল সোয়া ৪টা। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ৩ নম্বর প্লাটফর্মে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য ঠাঁয় বসে আছেন নারায়ণগঞ্জ ফকির গার্মেন্টের কর্মচারী শফিকুল ইসলাম। সকাল ৯টায় ট্রেনটি ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল। কিন্তু সকাল গড়িয়ে বিকেল পার হয়ে গেলেও সেই ট্রেনটির দেখা পাননি তিনি। আর কখন ট্রেন ঢাকায় আসবে, সেই নিশ্চয়তাও স্টেশন কর্তৃপক্ষ দিতে পারছেন না। তবে ট্রেনটি সম্ভাব্য রাত ৭-৮টায় ঢাকায় এসে পৌঁছাবে বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিচ্ছে। শুধু ফকির গার্মেন্টের কর্মী শফিকুল ইসলাম নয়, তার মতো হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন ধরতে ভোর থেকেই স্টেশনের প্লাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাঁয় বসে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনই গতকাল দেরি করে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ট্রেন নির্ধারিত সময়ের ১২-১৫ ঘণ্টাও বিলম্বে ছেড়েছে।
গতকাল ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিন খোঁজ নিতে গেলে ঈদ করতে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে এসব অভিযোগ।
এ দিকে কমলাপুর রেল স্টেশনে স্ট্যান্ডিং টিকিটের ভারে এমনিতেই ট্রেনগুলোর ত্রাহি অবস্থা। তার মধ্যে শত শত বিনা টিকিটের যাত্রীদেরকে স্টেশনে ঢুকতে দেখা গেছে। আর এসব লোককে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করেছেন স্টেশনের মূল ফটকের সামনে কর্তব্যরত একদল আনসার সদস্য।
শনিবার সন্ধ্যার আগে শিডিউল বিপর্যয় প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জেল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, শিডিউল ঠিক রাখার জন্য আমরা এবার প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু শুক্রবার খুলনাগামী একটি ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনায় আমাদের সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। সেটার কারণেই মূলত সমস্যাটা আরো জটিল হয়েছে। তবে আজ ও আগামীকালের যেসব যাত্রী টিকিট কেটে গন্তব্য যাওয়ার অপেক্ষা করছেন, তাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি যেতে না চান তারা টিকিটের টাকা ফেরত নিতে পারবেন। এমন নির্দেশনা আমি স্টেশনগুলোতে পাঠিয়েছি। স্টেশনে কতিপয় আনসার সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করে বিনা টিকিটের যাত্রীরা স্টেশনে প্রবেশ করছেনÑ এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্টেশনে আমাদের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পদমর্যাদার দু’জন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। আমি এখনই তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করছি। পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও মেসেজটি পিছে দিচ্ছি।
গতকাল বিকেল সোয়া ৪টার দিকে স্টেশনের প্লাটফর্মে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা নারায়ণগঞ্জের ফকির গার্মেন্টের কর্মচারী শফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, আমি ঈদ করতে রংপুর যাওয়ার জন্য আগেই অনলাইনে টিকিট কেটেছি। আজ (শনিবার) সকাল ৯টায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা। এখন বিকেল হয়ে গেল, কিন্তু ট্রেনটি এখন পর্যন্ত ঢাকাতেই আসতে পারেনি। কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেছেন, ট্রেনটি ঢাকায় আসতে রাত ৭-৮টা বেজে যেতে পারে। এখন কী আর করব। এখানেই অপেক্ষা করছি।
স্টেশনে দেখা যায়, ১ নম্বর, ৩ নম্বর, ৫ নম্বর প্লাটফর্মে ট্রেন থাকলেও প্লাটফর্মে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের অপেক্ষায় আছেন। এ সময় আনসার সদস্যদের স্টেশনে খোশগল্প করতে দেখা যায়। এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে একজন আনসার সদস্য বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনোভাবেই ট্রেনের ছাদ থেকে লোকজনকে নামাতে পারিনি। আর ঈদের সময় তাদের কিভাবে নামাই? এ সময় তিনি বলেন, শুক্রবার একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে একজন যাত্রী ধোপাস করে নিচে পড়ে আহত হয়। তার পরও তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠছে। আমরা আর কী করব?
উল্লেখ্য, ঈদের ছুটি রোববার শুরু হলেও তার আগে শুক্র ও শনিবার দুই ছুটির দিনেই বাড়ির পথ ধরেছেন বেশির ভাগ মানুষ। এর মধ্যে শুক্রবার ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশে লাইনচ্যুত হলে ট্রেন বন্ধ থাকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায়। কিন্তু ছেড়েছে শনিবার সকাল ১০টায়। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস শনিবার সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সূচি পিছিয়ে বেলা আড়াইটায় নতুন সময় ধার্য করে কর্তৃপক্ষ। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস শনিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল, নতুন সূচি অনুযায়ী তা দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা ছাড়বে বলে জানানো হয়। তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত ট্রেনটি ঢাকাতেই আসেনি। স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকার কারণে প্রতিটি স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ট্রেন দাঁড়াচ্ছে। ফলে বিলম্ব হচ্ছে।