Naya Diganta

পিতামাতার খেদমত জান্নাতের পাথেয়

মাতাপিতার খেদমত কোনো করুণার বিষয়বস্তু নয়, তা সবার জন্য অবশ্যই পালনীয় কর্তব্য। পিতামাতার খেদমত মুমিনদের জন্য জান্নাতের পাথেয়। যে ব্যক্তির ওপর তার পিতামাতা রাজি-খুশি থাকেন ওই ব্যক্তির ওপর আল্লাহ খুশি থাকেন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার প্রভু নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে উত্তম আচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মাজনক কথা বলো। আর তাদের উভয়ের জন্য দয়া পরবশ হয়ে মমতা ও নম্রতার ডানা বিছিয়ে দাও এবং বলো, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)। হজরত আবু হুরায়রা রা: বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার পিতামাতা উভয়কে অথবা দু’জনের যেকোনো একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল এবং তাদের খেদমত করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না, সে ধ্বংস হয়ে যাক। (মুসলিম : ৬২৭৯)।
পিতামাতা অমূল্য সম্পদ। যার কোনো বিনিময় মূল্য নেই। যে ব্যক্তির পিতামাতা দুনিয়াতে বেঁচে আছেন তিনিই সবচেয়ে বেশি ধনী। কারণ সন্তানের জন্য পিতামাতার দোয়া আল্লাহ কখনো ফেরত দেন না। পিতামাতা সন্তানের সবচেয়ে বেশি হিতাকাক্সক্ষী তথা মঙ্গল কামনাকারী। তাদের আদর, স্নেহ ও ভালোবাসার কোনো তুলনা জগতের কোনো বস্তুর সমপরিমাণ হবে না। শৈশবে যারা বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়েছেন তারাই শুধু বাবা-মায়ের অভাব বুঝতে পারে। যারা হারিয়েছেন তারাই কষ্টটা অনুভব করতে পারেন। তাই বড় হয়ে বাবা-মায়ের সাথে সন্তানকে অবশ্যই ভালো ব্যবহার করতে হবে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছেন। আর দুই বছর পর্যন্ত স্তন্যদান করেছেন।’ (সূরা লোকমান : ১৪)। হজরত আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। কেননা যে ব্যক্তি আপন পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো সে কুফরি করল। (বুখারি : ৬৩১১)। বাবা-মায়ের খেদমত জান্নাতের পথ প্রশস্ত করে। মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত। হজরত আবু উমামা রা: বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, পিতামাতাই হলো তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম। (ইবনে মাজাহ-মিশকাত, পৃ. নং-৪২১)।
মা-বাবার সাথে ভালো আচরণ করা, সালাম বিনিময় করা, শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়া, অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, সময়মতো পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা, তাদেরকে নিয়ে একসাথে খাওয়া, একসাথে বেড়াতে যাওয়া, ভালো জামা-কাপড় পরিধান করানো ও তাদের বিছানাপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নেক আমলের পর্যায়ভুক্ত। বাবা-মায়ের খেদমত করলে সন্তানের নিত্যদিনের গোনাহ মাফ হয়ে যায়। সন্তানের আমলনামায় নেকির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ভালো কর্মগুলো আমলনামা থেকে মন্দ কাজগুলোকে ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়। কুরআনে এরশাদ হয়েছে ‘যারা ভালো দ্বারা মন্দ দূরীভূত করে, তাদের জন্যই শুভ পরিণাম।’ (সূরা রা’দ : ২২)। হজরত আবু বাকরাহ রা: থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা সব গোনাহ যতটুকু ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। কিন্তু পিতামাতার অবাধ্যতা ক্ষমা করেন না।’ ( বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. নং-৪২১)।
বাবা-মায়ের সাথে সবসময় নম্র ভাষায় কথা বলতে হবে। তাদের ধমক দেয়া যাবে না। পিতামাতার অবাধ্য হওয়া যাবে না। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে।’ (সূরা নিসা : ৩৬)।
পিতামাতার সুদৃষ্টি প্রদান করলে কবুলি হজের সওয়াব মিলে। হজরত ইবনে আব্বাস রা: বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের পিতামাতার দিকে অনুগ্রহের নজরে দৃষ্টি করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. নং-৪২১)।
লেখক : প্রবন্ধকার