Naya Diganta

প্রাণী-মাতা কী করে শাবক চেনে

আমরা মানুষেরা পরস্পরকে চিনে নিই নাম দিয়ে। পার্থক্য খুঁজি আকার-আকৃতি, রঙ ও চেহারা দেখে। যমজদের ক্ষেত্রে অন্যরা পার্থক্য তেমন খুঁজেই পায় না, কিন্তু তাদের মা! তিনি অবশ্যই দু’জনের ক্ষেত্রে বিস্তর পার্থক্য খুঁজে পান। আমাদের এ পৃথিবীতে ১০ লাখের বেশি বিভিন্ন জাতির ও প্রকৃতির প্রাণী আছে। প্রত্যেক প্রাণীরই আছে প্রাণী মাতা-পিতা ও তাদের শাবক। আমাদের কাছে প্রাণী-শাবকদের একই রকম দেখতে মনে হলেও প্রাণী-মাতারা কিন্তু তাদের শাবকদের চিনে নেয় নিজস্ব কৌশলে। অন্যের শাবককে কখনো নিজের বলে মেনে নেয় না স্তন্যপায়ী প্রাণী-মাতারা। তাহলে জানতে হবে, কিভাবে নিজেদের শাবকদের চিনে নেয় প্রাণী-মাতারা?
যেসব প্রাণীর মধ্যে মাতা-পিতার যতœ প্রচলিত আছে, তাদের ক্ষেত্রে পরস্পরকে চেনার কিছু প্রক্রিয়া বা কৌশলের কথা বলছি। প্রাণী-মাতারা তাদের এ কৌশলকে কাজে লাগায় শুধু শাবকদের সাথে যোগাযোগ অক্ষুণœ রাখার জন্য। অনেক শাবকের মধ্যে মিশে গেলে কিংবা মাতা-পিতা থেকে একটু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে প্রাণীদের ইন্দ্রিয়ের বোধশক্তি যেমনÑ ঘ্রাণ, স্বাদ, শব্দ, দৃষ্টি ও স্পর্শÑ এই পাঁচটির মধ্যে যেকোনো একটি দিয়ে তারা পরস্পরের সাথে পরিচিত থাকে। প্রায় সব স্তন্যপায়ী প্রাণী-মাতা ঘ্রাণশক্তির সাহায্যে তাদের শাবকদের চিনতে পারে। হরিণ, ভেড়া, ঘোড়া ও সিলদের মধ্যে এটি সাধারণ ব্যবস্থা। এরা সবাই তাদের শাবকদের জন্মকালীন ঘ্রাণ নিয়ে নেয় এবং সেই ঘ্রাণটি স্মরণ রাখে। এরপর প্রয়োজনে প্রাণী-মাতা যখনই তার শাবককে খুঁজতে যায় তখনই পালের সব শাবকের ঘ্রাণ নেয় যতক্ষণ পর্যন্ত না সে নিজের শাবককে খুঁজে পায়। পাখিরা বিশেষভাবে শব্দের সাহায্যে পরস্পরকে চিনতে পারে। প্রত্যেক মাতা-পাখির নিজস্ব ‘মাতৃ-আহ্বান’ আছে, যা কিনা ছানা-পাখিরা জন্মানোর সময় থেকেই বুঝতে পারে। ডিম ফুটে ছানা বের হওয়ার সাথে সাথেই মা-পাখি ‘মাতৃ-আহ্বান’ দেয়। ফলে ছানাগুলো মা-পাখিকে অনুসরণ করতে থাকে।
কিছু ছোট প্রাণীর ক্ষেত্রে আকৃতি ও আয়তন খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়। প্রাণীরা তাদের শাবকদের চেনার জন্য স্পর্শও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মায়ের কাছে তার শাবক সব সময়ই চিরচেনা।