Naya Diganta

দুই গোয়েন্দার অভিযান অভিযান

আটত্রিশ.
সেই তুলনায় এখনকার ঘাস সাফ করাটা তো রীতিমতো বিনোদন মনে হলো তার কাছে। বিশাল এলাকা জুড়ে ঘাসের মাঠ। চতুর্দিকে যেদিকেই তাকায়, বিস্তীর্ণ ঘেসো জমি। তার ওপাশে ঘন গাছের সারি গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে সীমানার দেয়াল তৈরি করে। যে পরিমাণ জায়গা আছে, তাতে একটা গলফ কোর্স অর্থাৎ গলফ খেলার জায়গা বানানো যায়। এত জায়গা দিয়ে কী করত জমিদারেরা, কেন প্রয়োজন হতো, মাথায় ঢোকে না রেজার। বাড়িটার সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী থাকে মাইলখানেকেরও বেশি দূরে, মনি চাচীর কাছে শুনেছে।
ঘাস কাটতে কাটতে বাড়ির পুব পাশ ঘুরে এগোল রেজা। তেতলার জানালায় দেখা গেল গেদু চাচার মুখ। জানালার কাছে টেবিল পেতে বসে লিখছেন। ইঞ্জিনের শব্দে মুখ বাড়িয়ে তাকালেন। রেজার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়লেন।
ঘুরতে ঘুরতে বাড়ির সামনের দিকে চলে এলো রেজা।
গাড়ি-বারান্দায় দেখতে পেল সুজা ও মনি চাচীকে। গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আন্টি। সুজা তার ছবি তুলছে। রেজার আশঙ্কা হলো, এই ছবি তুলতে তুলতেই না কোনো দিন পাগল হয়ে যায় সুজা।
চোখ তুলে দোতলার সেই জানালাটার দিকে তাকাল রেজা। যেটাতে ছায়া দেখেছিল। চোখে রোদ লাগে। কপালে হাত রেখে রোদ আড়াল করে তাকাল। যেন হিরণ কুমারকে দেখতে পাবে ওখানে।
কিছুই চোখে পড়ল না। কোনো মানুষ নেই। হিরণ কুমারের ভূত রক্তচক্ষু মেলে তাকিয়ে নেই ওর দিকে।
শূন্য জানালা। (চলবে)