Naya Diganta

শেয়ারবাজারের সূচক তিন বছরে সর্বনিম্নে দর হারিয়েছে ৮১ শতাংশ শেয়ার

তিন বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে এসেছে শেয়ারবাজারের সূচক। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক গতকাল ৭৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে নেমে আসে। এর আগে ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান সূচক নেমেছিল ৪ হাজার ৯২৪ পয়েন্টে। ওই দিনের পর বুধবার সূচক সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে আসে। এ ছাড়া ব্যাপক দরপতনের ঘটনাও ঘটেছে গতকাল। দর হারিয়েছে ৮১ শতাংশ শেয়ার। ব্যাপক দরপতনের পেছনে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কটকে একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৫৩টি কোম্পানির ১২ কোটি ৮৩ লাখ ৬৩ হাজার ১২৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৩৭টির, কমেছে ২৮৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির দাম। দিনশেষে ডিএসই প্রধান সূচক আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৭৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ২১ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৭৩৬ পয়েন্ট, ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৫৫ পয়েন্টে নেমে আসে। এ দিন ডিএসইতে ৫০২ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৬১টি কোম্পানির ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪০টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৩৬টির, কমেছে ২১০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে সিএসইতে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে কেনাবেচা হয়েছিল ৬৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। এ দিন সিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ২১৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ১৪ পয়েন্টে নেমে আসে। আগের দিন সিএসইর সূচক ছিল ১৫ হাজার ২২৮ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গতকাল টপটেন লুজার বা দরপতনের তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করে রয়েছে এমএল ডাইং। এই কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ১ টাকা ৮০ পয়সা কমেছে। শেয়ারটি সর্বশেষ ২৩ টাকা ৩০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। এ দিন কোম্পানিটি ৩৫৪ বারে এক লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৫টি শেয়ার লেনদেন করে, যার বাজারমূল্য ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভিএফএস থ্রেড ডাইং। কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ বা ২ টাকা ৬০ পয়সা কমেছে। শেয়ার সর্বশেষ ২৫ টাকা ৮০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। এ দিন কোম্পানিটি ২ হাজার ৫৮৩ বারে ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৩টি শেয়ার লেনদেন করে, যার বাজারমূল্য ১১ কোটি ২৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
দর হারানোর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ৭ টাকা ৭০ পয়সা কমেছে। শেয়ার সর্বশেষ ৮৪ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। এ দিন কোম্পানিটি ২৭ বারে ২৯ হাজার ৮৫টি শেয়ার লেনদেন করে, যার বাজারমূল্য ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তালিকায় ওঠে আসা অন্যান্য কোম্পানি হচ্ছে- এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়া ফান্ড, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড-১, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, এরামিট সিমেন্ট লিমিটেড, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস ও এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড।
অন্য দিকে টপটেন গেইনার বা দর বাড়ার শীর্ষ স্থানে আছে ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড। এই দিন ওই কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ১৩ টাকা ৮০ পয়সা। শেয়ারটি সর্বশেষ ১৫২ টাকা ৭০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে। এ দিন কোম্পানিটি ৪ হাজার ১৬৬ বারে ১৮ লাখ ৩২ হাজার ১৫৪টি শেয়ার লেনদেন করে, যার বাজারমূল্য ২৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। গেইনারের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ। এই দিন ওই কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা। শেয়ার সর্বশেষ ৪২৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে। এ দিন কোম্পানিটি এক হাজার ২৪১ বারে ৮৫ হাজার ৭৮২টি শেয়ার লেনদেন করে, যার বাজারমূল্য ৩ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
দর বৃদ্ধির তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে জেমিনি সি ফুড। এই দিন ওই কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ বা ২৪ টাকা ৩০ পয়সা। ইউনিট সর্বশেষ ৩১০ টাকা ৩০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে। এ দিন কোম্পানিটি ২ হাজার ৩৬৩ বারে এক লাখ ৬৯ হাজার ৩০টি শেয়ার লেনদেন করে, যার বাজারমূল্য ৫ কোটি ১১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- মুন্নু জুট স্টাফলার্স, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেড, অ্যারামিট লিমিটেড, বিকন ফার্মা, সোনালি আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ লিমিটেড।
এ দিকে ডিএসইর ব্লব মার্কেটে গতকাল ১৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এসব কোম্পানির লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৫৭ হাজার টাকা। এ মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংকের। কোম্পানিটির মোট ৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড লেনদেনের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানির ২ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে।
ব্লক মার্কেটে লেনদেন করা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- আল-হাজ টেক্সটাইলস লিমিটেড ৫ লাখ ৪ হাজার, আনোয়ার গেলভানাইজিং লিমিটেড ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বঙ্গজ লিমিটেড ৭ লাখ ৭৫ হাজার, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড ১ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, বিকন ফার্মা লিমিটেড ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার, আইবিবিএল মুদারাবা পারপেচুয়াল বন্ড ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্সিয়াল লিমিটেড ১৭ লাখ ৮০ হাজার, ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড ১২ লাখ ২১ হাজার টাকা। ফার্মা এইড লিমিটেড ৫ লাখ ১৩ হাজার, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২৪ লাখ ৯৯ হাজার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ও ওয়াটা সিমেন্ট লিমিটেড ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।