Naya Diganta

ব্যর্থতা মুছতে জয় চায় আজ বাংলাদেশ

পরাজয়ের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই আজ বাংলাদেশ শুরু করছে আরেকটি চ্যালেঞ্জ। টেস্টের চেয়ে যে ফরম্যাটে কম বাজে রেকর্ড নেই দলটির। র্যাংকিংয়ে আফগানিস্তানেরও অনেক পর। ১০ এ অবস্থান। যদিও মিরপুর শেরেবাংলায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের অবস্থা আরো বেশি করুন। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট তো আর্থিক দৈন্যদশায় ঝামেলা লেগেই রয়েছে। এরপর সরকারি হস্তক্ষেপে আইসিসি তাদের সদস্যপদই দিয়েছে স্থগিত করে। কঠিন ঝামেলার মধ্যে তারা। আইসিসি স্বাভাবিকভাবে আর্থিক কোনো সাহায্য করছে না। সবমিলিয়ে খেলোয়াড়দের ক্রান্তিকাল সেখানে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ঢাকায় এসেছে। খেলবেন তারা এ টুর্নামেন্ট। মুখে হাসি হ্যামিল্টন মাসাকাদজার, ব্রেন্ডন টেইলরের। কিন্তু অন্তর পুড়ে ছাই। বোর্ডে বেতন ভাতার খবরও নেই। কোনো রকম চলে যাচ্ছে তাদের দিন। জিম্বাবুয়ের সমস্যা এক রকম আবার বাংলাদেশের সমস্যা অন্যরকম। এখানে অর্থের সমস্যা নেই। নেই কোনো ঝামেলাও। কিন্তু ক্রিকেটাররা অমনোযোগী। পারফরম্যান্স করতে পারছেন না। সব পেয়েও অজানা এক ব্যর্থতায় আচ্ছন্ন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। নতুবা ঘরের মাঠে সবে তৃতীয় টেস্টম্যাচ খেলতেনামা আফগানদের কাছে বিধ্বস্ত হবে। হেরে যাবে। বলেকয়ে জিতে যাবে টেস্টম্যাচে আফগানিস্তান। এ লজ্জা সীমাহীন। যদিও এ মুহূর্তে পেছনটা টেনে আনা উচিত না। নতুন একটা টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে মনোযোগ এখন সে দিকেই। কিন্তু সত্যিই ক্ষত তো শুকায়নি এখনো তাদের। ওই দলের অনেকেই রয়েছে টি-২০ স্কোয়াডে। মনে তাদের অজানা এক ভয়। এমনিতেই টি-২০ ক্রিকেটে ভালো করা সম্ভবপর না। এবার নিজ মাঠে অমন এক হারের পর এ টুর্নামেন্টে আসলেই কী রিল্যাক্সে শুরু করতে পারবেন ম্যাচ সাকিবরা? টেস্টম্যাচ শেষে অধিনায়ক বলেছিলেন, আমাদের বেশ কিছু দিন এ পরাজয়ের আঘাত সহ্য করতে হবে। তবে একটা জয় আবার অনেক কিছু ভুলিয়ে দিতে পারে। সাকিব আজ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের কথাটাই বলেছিলেন। যে ওই ম্যাচ আমরা জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চাই। অনেক কিছু ভুলিয়ে দিতে চাই। কিন্তু আদৌ তা কী সম্ভব? প্রস্তুতি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে বিসিবি একাদশ। যেখানে খেলেছে জাতীয় দলের বেশ ক’জন। ছিলেন মুশফিক, সাব্বির, আফিফরাও। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জিতেছে রিল্যাক্সে। ওটা প্র্যাকটিস ম্যাচ হলেও একটা নমুনাও রেখে গেছে। বাংলাদেশ তো আসলে ওইভাবেই খেলে। টি-২০’র মেজাজই যেখানে অনুপস্থিত। ধুম-ধারাক্কার ম্যাচ। চার ছক্কার ম্যাচ। কিন্তু এটাই তারা এ ফরম্যাটে এলে ভুলে বসে থাকেন। যেখানে ক্রিজে টিকে থাকলে ড্র হয়। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ১৮.৪ বল ঠেকালে ম্যাচ ড্র। সেখানে চার-ছক্কা হাঁকাতে যান তারা। কিন্তু ওই সবকেই আবার এ ফরম্যাটে দেখা যাবে বলের পর বল নষ্ট করে চলেছেন। এভাবেই চলছে। বাংলাদেশ যে বাজে করছে তা নয়। কিন্তু ইদানীং খুব বাজে ক্রিকেটই যাচ্ছে। বিশ^কাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর শ্রীলঙ্কা সফরেও টানা হার। এরপর নিজ দেশে আফগানিস্তানের কাছে একমাত্র টেস্টে হেরে পরাজয়ের বৃত্তে তারা। আজ এ থেকে বের হওয়ার দৃঢ়তা। কিন্তু তা কতদূর সফল হবেন সেটাও দেখার বিষয়। খেলোয়াড়দের মধ্যে বিরাজ করছে অজানা এক ‘ভয়।’ কী জানি সঠিকভাবে পারফরম্যান্স করতে পারব তো। মিরপুর শেরেবাংলায় আজ সে প্রশ্নের জবাব দেবে সাকিবরা। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে খেলা। তবে এটাও ঠিক জিম্বাবুয়েও ছেড়ে দেয়ার দল নয়। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সমাহার দলটিতে। যারা এ কন্ডিশনে খেলেছেন বহু ম্যাচ। ফলে ছেড়ে দেবে না তারাও। জিম্বাবুয়ে বলেই একতরফা খেলে জিতে যাবে বাংলাদেশ, তা ভাববার সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের সে সামর্থ্য থাকলেও অজানা ‘ভয়’ তো ঠিকই রয়েছে। তা দূর করবে কে? উল্লেখ্য, এ টুর্নামেন্টের অপর দল আফগানিস্তান।