Naya Diganta

দেশে আসার অনুমতি পাচ্ছে না গুমবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের গ্রুপ

জাতিসঙ্ঘের গুমবিষয়ক কার্যকরী গ্রুপ বাংলাদেশে আসার অনুমতি পাচ্ছে না। ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ছয়বার অনুরোধ জানিয়েও সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ আসার আমন্ত্রণ পায়নি জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রস্তাবনায় আওতায় গঠিত এই গ্রুপ। গুমকে বিচারবহির্ভূত আটক ও হত্যাকাণ্ডের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার অভিযোগগুলো সম্পর্কেও জাতিসঙ্ঘের এ গ্রুপ সরকারের কাছ থেকে বারবার তথ্য চেয়েও পায়নি।
জেনেভাতে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪২তম অধিবেশনে গুমবিষয়ক কার্যকরী গ্রুপের উত্থাপিত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। গত বুধবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুম পরিস্থিতির ওপর এ প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। এতে ২০১৮ সালের ৩ মে থেকে চলতি বছরের ২২ মে পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহের ওপর আলোকপাত করা হয়।
অধিবেশনে গুমবিষয়ক কার্যকরী গ্রুপের প্রধান বার্নাড ডুহামি বলেন, গুম প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া রাষ্ট্রগুলোর জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছু রাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান হারে সন্ত্রাস দমনের নামে গুমকে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ সব রাষ্ট্র গুমকে স্বাভাবিক ঘটনা ধরে নিতে পারে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিষ্কার লঙ্ঘন। এ প্রবণতায় গুমবিষয়ক কার্যকরী গ্রুপ খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি তা মানবাধিকার কাউন্সিল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানো আমাদের দায়িত্ব।
প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, কার্যকরী গ্রুপ প্রথম ২০১৩ সালের ১২ মার্চ ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানাতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর, ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর, ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি ও ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি এ ব্যাপারে তাগাদা দিয়েও কোনো সাড়া পায়নি।
প্রতিবেদনে ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে গুমের অভিযোগ সম্পর্কে তথ্য চেয়ে সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ৪ মে গুমকে বিচারবহির্ভূত আটক ও হত্যাকাণ্ডের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালের ৯ মার্চ গুমের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষসহ গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৯ জুন ক্রমবর্ধমান হারে গুমের অভিযোগ বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৯৮০ সালে গঠিত কার্যকরী গ্রুপের ম্যান্ডেটের মধ্যে রয়েছে, গুম হওয়ার ব্যক্তিদের খোঁজ-খবর দিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে সহায়তা দেয়া, গুম থেকে জনগণকে রক্ষার ঘোষণা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা পূরণ পর্যবেক্ষণ এবং গুম প্রতিরোধে রাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা দেয়া।
গত ৩০ জুলাই জেনেভায় বাংলাদেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনার সময় নির্যাতনবিরোধী জাতিসঙ্ঘের কমিটি বলেছে, একটি রাষ্ট্রের ভেতরে আর একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকা উচিত না। পুলিশের জন্য দায়মুক্তি থাকতে পারে না। নির্যাতন বা অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন পুলিশ কমিশন থাকা প্রয়োজন।
এতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য জাতিসঙ্ঘের সনদের আলোকে ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া নির্যাতনবিরোধী জাতিসঙ্ঘ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। এসব ঘটনাকে গুম হিসাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সরকার গুমবিষয়ক অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখছে।