Naya Diganta

ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপির প্রবীণ নেতা গ্রেফতার

গ্রেফতার করা হয়েছে স্বামী চিন্ময়ানন্দকে

অবশেষে গ্রেফতার করা হলো আইনি ছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত ভারতের বর্তমান শাসক দল বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ স্বামী চিন্ময়ানন্দকে। আজ শুক্রবার শাহজাহানপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।

বৃহস্পতিবারই চিন্ময়ানন্দের কলেজ মুমুক্ষু আশ্রমের অভিযোগকারিণীর মায়ের নিয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত রেকর্ড চেয়েছে সিট। গত মে মাসে ওই কলেজে শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন নিগৃহীতা ছাত্রীর মা। এই মামলার সাথে জড়িত নানা মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামী সোমবারের মধ্যে এলাহাবাদ হাইকোর্টে সিট তদন্তের রিপোর্ট পেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যৌন নিগ্রহের মামলায় গত সোমবার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আইনের সেই ছাত্রীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ আনেন আইনের স্নাতকোত্তর স্তরের ওই ছাত্রী। তার অভিযোগ, ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেছেন স্বামী চিন্ময়ানন্দ। এই মামলায় গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম সোমবার নিগৃহীতাকে শাহজাহানপুরের আদালতে পেশ করে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ১৬৪ সিআরপিসিতে তার জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়। দু’দিন আগেই সিটের হাতে ৪৩টি ভিডিও তুলে দিয়েছেন নিগৃহীতা ছাত্রী।

চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের স্বপক্ষে তার কাছে যে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, সে দাবি আগেই করেছিলেন নিগৃহীতা আইনের ছাত্রী। শনিবার সিট-এর হাতে চিন্ময়ানন্দ সংক্রান্ত অন্তত ৪৩টি ভিডিও ক্লিপস তুলে দেন ওই ছাত্রী। একটি পেন ড্রাইভে করে গত শনিবার তিনি ওই ভিডিও ক্লিপসগুলো জমা দেন।

তার বক্তব্য, চিন্ময়ানন্দ লুকিয়ে তার গোসলের ছবি তুলে রেখেছিলেন। পরে, সেই ভিডিও দেখিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন। একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয়।

দিল্লির শাহজাহানপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিগৃহীতা ওই তরুণী জানিয়েছিলেন, চিন্ময়ানন্দ তাকে ধর্ষণ করেছেন। একবছর ধরে শারীরিক ভাবে তার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পরে কিছু দিনের জন্য নিখোঁজ হয়ে যান অভিযোগকারী আইনের স্নাতকোত্তর ছাত্রী। সেসময় মেয়ের হয়ে পুলিশের কাছে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন নিগৃহীতার বাবা।

গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছিলেন ওই ছাত্রী। তার বক্তব্য, প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে পুলিশ। পরে অবশ্য অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। বিজেপি নেতা চিন্ময়ানন্দকে জেরা করলেও, পুলিশ এখনো তাকে গ্রেফতার করেনি। তা নিয়েও ক্ষোভ শোনা গেছে ছাত্রীর মুখে। তবে, সিটের উপর তার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই আইনের ছাত্রী।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া